সম্প্রতি ঘটে গেল এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা স্থানীয় মানুষদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণভাবে আমরা মৃতদেহের ময়নাতদন্তের পরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু বর্তমান ঘটনায় সেটা পুরোপুরি অন্য রকম রূপ নেয়। প্রথমে এটি সাধারণ ময়নাতদন্তের ঘটনা মনে হলেও, তা পরিণত হয় বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও উত্তেজনার।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আলিপুরদুয়ারে কামাখ্যাগুড়ি এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্র দাস (৪৫), যিনি সম্প্রতি হঠাৎ অস্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেন। রবীন্দ্র দাসের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই কামাখ্যাগুড়ি আউট পোস্টের পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য। হাসপাতালের কাজকর্ম নিয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যরা কোনো আপত্তি করেননি, কিন্তু বিষয়টি আশ্চর্যজনক মোড় নেয় যখন মৃতদেহটি বাড়িতে নেওয়া হয়।
পরিবার যখন প্লাস্টিকে মোড়ানো মৃতদেহের মুখ খোলে, তখন তাঁরা দেখেন যে সেটি কোনোভাবেই রবীন্দ্র দাসের নয়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, মৃতদেহের সঙ্গে কোনোকিছুই মিলছে না। এই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতিতে হাসপাতালের কর্মীরা প্রথমে সঠিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি। খবর পেয়ে কুমারগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কিন্তু ইতিমধ্যেই মৃতদেহ দ্রুত সৎকার করা হয়েছে। এই দ্রুততার কারণে পরিবারের মধ্যে সংশয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাও দাবি করেন, “ময়নাতদন্তের পরে মৃতদেহ ঘরে এলে দেখা যায় সেটি আসলে রবীন্দ্র দাসের নয়। পরিবারের অভিযোগ জানাতে মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন মৃতদেহ দাহ করে দেয়।” সূত্রের খবর, আসলে রবীন্দ্র দাসের দেহ চলে গিয়েছিল ফালাকাটার এক স্বজনহারা পরিবারের কাছে, আর তাদের মৃত ব্যক্তির দেহ হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ Bolpur : আইনের রক্ষকই ভাঙছে আইন! থানার চত্বরে ডিজের তালে কোমর দুলিয়ে কালীপুজোয় বিতর্কে মুখে আইসি লিটন হালদার!
এই ঘটনার মাধ্যমে পুলিশ ও মর্গের কার্যপ্রণালী নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, যে কেন মৃতদেহ হস্তান্তরের আগে সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভুল সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে। ফলে আলিপুরদুয়ারের এই ঘটনা এখন শুধু পরিবার নয়, পুরো সমাজের নজর কেড়েছে।





