ভোটের ফল ঘোষণার পরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হল মধ্যমগ্রামে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে রাস্তায় গুলি করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, গাড়ি থামিয়ে খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বিজেপির দাবি, পুরো ঘটনাই আগে থেকে পরিকল্পনা করা ছিল। অভিযুক্তরা অনেকক্ষণ ধরে তাঁকে অনুসরণ করে এসে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার পর বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “এটাই প্রত্যাশিত ছিল। কত নীচে নামতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলী সংস্কৃতি, এটাই তার প্রমাণ।” তাঁর দাবি, তিনি গত আট মাস ধরে বলে আসছিলেন সরকার বদলের পর রাজ্যপাল ও নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে। শমীকের কথায়, “তৃণমূল এবার তৃণমূলকে মারবে। চারিদিকে বিজেপির ঝান্ডা দিয়ে গেরুয়া আবীর মেখে তৃণমূলের লোকই তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙছে।” তিনি আরও বলেন, “আজ শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে গুলি চালাল।” তাঁর মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
শমীক আরও বলেন, “যে বিরোধী দলনেতার ওপরে এতবার আক্রমণ হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী শুধু নয়, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারের ওপর আগেও আক্রমণ হয়েছে।” তিনি রাজনীতির বর্তমান চেহারা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। বলেন, “আমরা রবীন্দ্র, নজরুল সন্ধ্যায় তো আর নেই, আমরা ডিজে-তে চলে গিয়েছি।” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “রাজনীতি সবার জন্য নয়, রাজনীতিও একটা নির্দিষ্ট পথ ধরে চলে। রাজনীতি কারা করে? এখন তো দুষ্কৃতীদের রাজনীতি।” চন্দ্রনাথ রথের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একজন প্রাক্তন এয়ারফোর্সের জওয়ান। তাঁকে এভাবে মেরে ফেলা হল।” তাঁর দাবি, এটি সাধারণ ঘটনা নয়, পরিকল্পিত খুন।
ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রের জয়ী বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। তিনি বলেন, “চন্দ্রনাথদা আমাদের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। তাঁর সঙ্গে এটা করে তৃণমূল কংগ্রেস জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করল।” এতদিন শান্তির বার্তা শোনানো হলেও এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তরুণজ্যোতির কথায়, “শান্তির বাণী তো সবসময় চলে না তাই না।” তিনি আরও বলেন, “আমার নিজের দাদার মত। শুভেন্দুদার পুরো কাছের মানুষ ছিলেন চন্দ্রনাথদা।” ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিজেপি শিবিরে এই ঘটনার জেরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে সরানো হল অতিকায় স্ক্যানার, তুলে নেওয়া হল অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা!
তরুণজ্যোতি আরও দাবি করেন, “রাগের কারণ তো থাকবেই। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী হেরে গিয়েছেন। সেখান থেকেই রাগ জন্মেছে।” এদিকে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, রথীন ঘোষের ঘনিষ্ঠ লোকেরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত। উল্লেখ্য, বুধবারই ইডি দফতরে হাজিরা এড়িয়েছিলেন রথীন ঘোষ। সেই কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হামলা হয়েছে বলে দাবি তুলেছে বিজেপি শিবির। অন্যদিকে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “আইনি পথেই সবকিছু করব। সরকারকে ক্ষমতায় আসতে দিন।” ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। এখন তদন্তের দিকেই নজর সবার।





