পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে সরানো হল অতিকায় স্ক্যানার, তুলে নেওয়া হল অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা!  

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই বদলে যেতে শুরু করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চিত্র। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা। এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-এর সামনে থেকে নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ১৮৮এ, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের ওই বাড়ির সামনে ছিল কড়া পুলিশি প্রহরা। গার্ডরেল, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন সব মিলিয়ে পুরো এলাকা কার্যত সুরক্ষার বলয়ে ঢাকা ছিল। কিন্তু বুধবার দুপুরে চিত্রটা একেবারে উল্টে যায়। বাড়ির সামনে আর কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা চোখে পড়েনি। যে পুলিশ বুথটি এতদিন সক্রিয় ছিল, সেটিও ফাঁকা দেখা যায়। শুধু একটি কুইক রেসপন্স টিমের গাড়ি এবং স্থানীয় থানার এক পুলিশকর্মীকে মাঝে মাঝে টহল দিতে দেখা গিয়েছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ দৃশ্য ছিল অভিষেকের বাড়ি থেকে একটি অতিকায় স্ক্যানার সরিয়ে নেওয়া। এই ধরনের স্ক্যানার সাধারণত বিমানবন্দর, বড় রেল স্টেশন বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে ব্যবহার করা হয়। বুধবার দুপুরে মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে সেটিকে বাড়ি থেকে নামাতে দেখা যায়। পাশাপাশি বাড়ির সামনে বসানো চেয়ার, গার্ডরেল সবকিছুই তুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি বাড়ির লাগোয়া বাতিস্তম্ভে বিজেপির পতাকা ঝুলতেও দেখা যায়, যা রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই নিরাপত্তা প্রত্যাহার শুধু অভিষেকের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মঙ্গলবার থেকেই ধাপে ধাপে রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরানোর কাজ শুরু হয়। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির মুখে থাকা ‘সিজার ব্যারিকেড’ খুলে ফেলা হয়। একইভাবে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের কার্যালয়ের সামনে থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। পরে লালবাজারের তরফে নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের বাড়ি ও দফতরের সামনে আর বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে না।

তবে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রোটোকল অনুযায়ী একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একজন সাংসদ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যতটা নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা বজায় থাকবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই পরিবর্তনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কথায়, আগে অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য ফুটপাথ দিয়ে হাঁটা বা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ত। এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন রাজ্যের প্রশাসনিক চিত্রে বড় বার্তা দিচ্ছে।

RELATED Articles