Kasba: কসবায় ফের ‘রাতদখল’? আরজি করের ধাঁচেই নাগরিক আন্দোলনের আভাস, পথে বিরোধীরা, চাপ বাড়ছে শাসকের!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক তরুণী চিকিৎসকের উপর হওয়া নারকীয় অত্যাচার এখনও ভুলতে পারেনি রাজ্য। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকার একটি আইন কলেজে গণধর্ষণের অভিযোগ। ক্রমেই প্রশ্ন উঠছে— আবার কি নাগরিক আন্দোলনের পথে হাঁটবে বাংলা? রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কি ফের পথে নামবেন সাধারণ মানুষ? উঠছে তুলনা, আরজি করের আন্দোলনের মতোই কি এবারও রাজপথ দখলে নেবে ‘রাতদখলকারী’রা?

ঘটনার পর শুক্রবার থেকেই সরব হয়ে ওঠে রাজনৈতিক দলগুলি। কসবা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি যুব মোর্চা। পথে নামে কংগ্রেস, সিপিএম, এসইউসিআই, এমনকি আইএসএফ-ও। পুলিশি বাধা, লাঠিচার্জ, গ্রেফতার— সব মিলিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকাজুড়ে। শনিবারও চলেছে একাধিক দল ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচি। স্পষ্ট, কসবা ঘটনার প্রতিবাদ আর নিছক দলীয় গণ্ডিতে আটকে নেই— আন্দোলনের ব্যপ্তি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে সরকারের চাপ।

শুধু রাজনৈতিক দল নয়, বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনও এবার মাঠে নামছে। রবিবার ‘রাতদখল’ কর্মসূচির আদলে কসবা ল কলেজের সামনেই এক প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। আরজি করের সময় নেতৃত্বে থাকা রিমঝিম সিংহর মতো সমাজকর্মীরা এবারও আহ্বান জানাচ্ছেন, “আবারও রাস্তায় নামার সময় এসেছে।” এমন বার্তায় জনমানসে আন্দোলনের ছায়া পরিষ্কার হলেও, সাধারণ নাগরিকরা আদৌ কতটা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই আন্দোলনে যোগ দেবেন, তা নিয়েই দোলাচল তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শাসক দল তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে টিএমসিপি-র কোনও যোগাযোগ নেই। কিন্তু বিজেপি, এবিভিপি-সহ একাধিক সংগঠনের অভিযোগ, অভিযুক্তদের টিএমসিপির সঙ্গে বর্তমানে যোগ রয়েছে। এমনকি বিজেপি অভিযুক্তের ছবিও প্রকাশ্যে আনছে। শাসক দল যতই ‘রাজনীতি নয়, আইন চলুক’ বার্তা দিক, বিরোধীরা তাতে কর্ণপাত করছে না।

আড়ও পড়ুনঃ Kasba ra*pe case : তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা মনোজিৎ মিশ্রই নিয়ন্ত্রণ করতেন কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরা! তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

বিরোধী নেতারা একবাক্যে বলছেন, এবার সময় এসেছে ‘নাগরিক আন্দোলনের’। আরজি করের মতো ঘটনা ফের যদি কসবার পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে, তবে আন্দোলনও আগের থেকেও বিস্তৃত হতে পারে। তবে এই আন্দোলন কতটা জনসমর্থন পাবে, তাতে অনেকটাই নির্ভর করবে সামনের দিনগুলো। কারণ বিরোধীরা জানে, নাগরিক সমাজ যদি এবারও মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আরজি কর আন্দোলনের মতো এই অধ্যায়টিও হয়তো ইতিহাসে ধূসর হয়ে থাকবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর