ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু দক্ষিণ কলকাতার কসবা ল কলেজে যা ঘটল, তাতে ভয় আর শঙ্কাই ছড়াচ্ছে শহর জুড়ে। দিনেদুপুরে এক ছাত্রীর উপর ঘটেছে নারকীয় অত্যাচার, আর তা নাকি ঘটেছে কলেজেরই গার্ড রুমে! এই ঘটনার পর উত্তাল গোটা এলাকা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের ঝড়। তবে ঘটনার প্রাথমিক তথ্যের বাইরেও রয়েছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আনছে পুলিশ ও ফরেন্সিক দল।
জানা গিয়েছে, কলেজেরই নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত থাকার পরও ওই ছাত্রীকে গার্ডরুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে— অভিযুক্ত ওই নিরাপত্তারক্ষীকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও তিনজন ছাত্র, যারা গণধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে অভিযোগ, তাদেরও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারিণী জানান, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে টার্গেট করা হয়।
শুক্রবার রাতেই বিশেষজ্ঞ ফরেন্সিক টিম কলেজ চত্বরে পৌঁছয়। তদন্তকারীরা একটি ঘর থেকে হকিস্টিক বাজেয়াপ্ত করেছেন। কমনরুমে মিলেছে রক্তের দাগ, যা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মূল গার্ডরুম থেকেও আলামত তোলা হয়েছে। শনিবার এই সমস্ত নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, শারীরিক নির্যাতনের পূর্বে মারধর করা হয়েছে, আর সেই সময়েই রক্তপাত ঘটে থাকতে পারে।
কলেজে লাগানো সিসিটিভি-র হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অন্তত ৫-৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, একাধিক অভিযুক্ত ছাত্র নির্যাতিতাকে জোর করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু কলেজ নয়, পাশের একটি দোকানের সিসিটিভিও পুলিশ পরীক্ষা করবে বলে জানা গেছে, যেখান থেকে ইনহেলার কেনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
আড়ো পড়ুনঃ Kasba: কসবায় ফের ‘রাতদখল’? আরজি করের ধাঁচেই নাগরিক আন্দোলনের আভাস, পথে বিরোধীরা, চাপ বাড়ছে শাসকের!
অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন। এরপর অভিযুক্তদের একজন তাঁকে ইনহেলার এনে দেয়, যাতে তিনি সাময়িক স্বস্তি পান। এই ইনহেলার কেনার ফুটেজ মিলতে পারে সিসিটিভিতে। এই তথ্যও মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে চলেছে। আপাতত চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন উঠছে কলেজ চত্বরের নিরাপত্তা নিয়ে।






