রাজ্যে করোনা সতর্কতা প্রচারের সময় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকবারই বলেছেন, করোনার মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন এবং প্রতিবেশী ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন। এতদিন একথা মুখে বললেও এবার কাজে করে দেখালেন তিনি। তিনি তাঁর এক প্রতিবেশীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠালেন।
বৃহস্পতিবার নবান্নে সংবাদমাধ্যমে এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার বাড়ির পাশে একজন বয়স্ক মানুষ থাকেন, যার দুই মেয়েই প্রফেসর। বড় মেয়ে কাল তাঁকে দেখতে এসে জানতে পারে, ৩ দিন ধরে তিনি জ্বরে পড়ে রয়েছেন। এরপরই কালীঘাট থানার এসআই নিজের কথা না ভেবে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে এসেছেন। যদি তাঁর মেয়ে ওই সময় না আসত কিংবা আমি না জানতে পারতাম তাহলে হয়তো উনি ওভাবেই মারা যেতেন।”
এই ঘটনার উল্লেখ করে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, কলকাতা পৌরনিগম ও পুলিশ যেন যৌথভাবে সার্ভে করে দেখেন শহরের আর কোথায় কোথায় মানুষ এইরকম একা থাকেন কিংবা কোথায় কতজন বয়স্ক দম্পতি আছেন যাদের দেখাশোনার কেউ নেই তাদের একটা তালিকা প্রস্তুত করতে।
শুধু কলকাতাতেই নয় হাওড়া, সল্টলেক এবং উত্তর ২৪ পরগনায় যেখানেই করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে সেখানেই এই তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজ্যবাসীদের তিনি আবারও সাবধান করেছেন, যাতে এই রোগকে না লুকিয়ে মানুষ সতর্ক হন এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের টেলিমেডিসিন-এর সাহায্য নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, করোনার আবহে আমাদের সামনে অনেক অমানবিক ঘটনা উঠে এসেছে। যেখানে করোনা সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অনেকেই প্রতিবেশীকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি। বরং কোথাও কোথাও তো করোনা সন্দেহে বাড়ি ছাড়া করার ঘটনাও সামনে এসেছে। সেখানে প্রতিবেশীর জন্য এমন পদক্ষেপ নিয়ে এক বেনজির দৃষ্টান্ত গড়লেন প্রশাসনিক প্রধান। আশা করা যায় তাঁর এই পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত হয়ে সাধারণ মানুষ তাঁদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন অসুস্থ মানুষদের সাহায্যে।






