West Bengal politics : ৯০% কাজ শেষ, তবু ৫০ লাখ ভোটারের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! ছয় জেলার প্রশাসনকে কড়া চিঠি কমিশনের—আসলে কত বড় গরমিল লুকিয়ে আছে বাংলার ভোটার তালিকায়?

বাংলার ভোটার তালিকা নিয়ে চলতি কয়েক সপ্তাহ ধরে যে তৎপরতা চলছে, তা আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নজর কাড়ছে। কারণ নির্বাচন কমিশন এবার গোটা রাজ্যে একযোগে ‘এসআইআর’ বা স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিশন চালাচ্ছে, যাতে সব মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপস্থিত ভোটারদের চিহ্নিত করে তালিকাকে সঠিক করা যায়। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তাই নতুন করে কৌতূহল—এই খতিয়ান শেষ হলে বাংলার আসল ভোটার সংখ্যা কত দাঁড়াবে?

পরিস্থিতি আগের ধারণার চেয়ে অনেকটাই গুরুতর। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ। এই ডিজিটাল আপডেটের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে, একের পর এক ক্যাটাগরিতে ভোটারদের বাদ পড়ার সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। সেই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ‘আন-কালেক্টেবল’ ফর্মের সংখ্যা, যা ধীরে ধীরে সামনে আসছে প্রতিটি জেলার আপলোডের সঙ্গে।

বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, মৃত ভোটারের সংখ্যা একাই পৌঁছে গিয়েছে ২২ লক্ষ ৮২ হাজার ৭৮৯-এ। পাশাপাশি অনুপস্থিত বা চিহ্নিত করা যায়নি এমন ভোটার ৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৫৩১। স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার ১৭ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৬৩ এবং ডুপ্লিকেট পাওয়া গিয়েছে ১ লক্ষ ১২ হাজার ৭৫ জনকে। এই সব বিভাগ মিলিয়ে সকাল আটটা পর্যন্ত আন-কালেক্টেবল ফর্ম ছিল ৪৯ লক্ষ ৪৩৭, আর বেলা বাড়তেই তা পেরিয়ে যায় ৫০ লক্ষেরও বেশি। অর্থাৎ এত সংখ্যক ভোটার বাস্তবে আর তালিকায় থাকার কথা নয়, এমনটাই মনে করছে কমিশন।

রাজ্যের প্রতিটি জেলায় আলাদা করে হিসেব করলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা উত্তর-দক্ষিণ, হাওড়া, হুগলি—এই সব জনবহুল জেলাগুলিতেই সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি। একমাত্র কলকাতা শহরেই দুই ভাগ মিলিয়ে মৃত-অনুপস্থিতসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে ৫ লক্ষেরও বেশি। বহু জেলায় এখনও আপলোডের কাজ শেষ হয়নি বলে কমিশন মনে করছে, চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যে কারণে ছয় জেলার ডিইও-দের কাছে বিশেষ চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুনঃ West Bengal : ‘কেন্দ্র টাকা আটকে দিলেও উন্নয়ন থামেনি’— দাবি মমতার ! দুই কোটির চাকরি, দারিদ্রসীমার বাইরে কোটি মানুষ— সত্যিই কি মডেল রাজ্যে পরিণত হয়েছে বাংলা?

এদিকে স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, বেশ কিছু জায়গায় বিএলও-রা তিনবার বাড়ি গিয়ে তালিকা সংগ্রহের পরও তথ্য আপলোড করতে দেরি করছেন। অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্তা তাঁদের বলেছেন “শেষ মুহূর্তে আপলোড করলেই চলবে”—এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। কমিশনের বক্তব্য স্পষ্ট—এই প্রক্রিয়া যত দ্রুত শেষ হবে, তত দ্রুত রাজ্যের আসল মৃত ভোটার, অনুপস্থিত ভোটার এবং ডুপ্লিকেট ভোটারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। আর সেই সংখ্যাই ঠিক করবে, বাংলার ভোটার তালিকা ঠিক কতটা স্বচ্ছ ও নির্ভুল।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles