সহপাঠীর সঙ্গে প্রেম থেকে বাগদান, বিচ্ছেদ হতেই পরিচালকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা! শেষে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও, বিবাহিত পুরুষকে করলেন জীবনসঙ্গী! ছাত্রজীবন থেকে বিতর্কিত প্রেম জীবন, কোন সেই নায়িকা?

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজ়মি এবার ৭৫ বছর পূর্ণ করেছেন। ১৯৮৪ সালে গীতিকার জাভেদ আখতারের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। জাভেদ তখন আগে থেকে বিবাহিত ছিলেন এবং দুই সন্তানের পিতা। এমন পরিস্থিতিতে শাবানার পরিবার প্রথমদিকে বিবাহের প্রতি রাজি ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সব বাঁধা দূর হয়ে যায় এবং আজ শাবানা ও জাভেদ সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের সম্পর্কের চার দশক পার হলেও, পারিবারিক বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া এখনও অটুট।

শাবানা আজ়মি চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন ১৯৭৪ সালে ‘অঙ্কুর’ ছবি দিয়ে। সেই ছবি নিয়ে তিনি একেবারে নতুন প্রতিভার পরিচয় দেন এবং প্রথম চলচ্চিত্রেই জাতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন। শাবানার কেরিয়ারের শুরুতেই তিনি প্রেমে পড়েছিলেন তাঁর সহপাঠী, মঞ্চ অভিনেতা বেঞ্জামিন গিলানির সঙ্গে। পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট-এ পড়ার সময় তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে বাগদান ভেঙে যাওয়ার পর শাবানা পুরো মন দিয়ে অভিনয়ে মন দেন এবং আশির দশকে শীর্ষ স্থানে পৌঁছান।

শাবানার ক্যারিয়ারের উত্থান যেমন সুপরিচিত, তেমনই তার ব্যক্তিগত জীবনও গুঞ্জন তৈরি করেছিল। ১৯৮৩ সালে ‘মাসুম’ ছবিতে কাজ করার সময় পরিচালক শেখর কপূরের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এরপর তারা সাত বছর সম্পর্ক বজায় রাখেন। এই সময়ও শাবানা এবং শেখর পেশাগত জীবনে মনোযোগী ছিলেন। তবে সম্পর্ক চলাকালীন নানা মতবিরোধ ও গুঞ্জনের কারণে তাদের আলাদা হওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

শেখরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শাবানা জীবনে আসে জাভেদ আখতার। জাভেদ প্রথম থেকেই শাবানার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতেন। ১৯৭৮ সালে জাভেদের স্বামী হনী ইরানি থেকে আলাদা হন। তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে হনী একা থাকলেও, পরবর্তী বছরগুলোতে শাবানা ও জাভেদের সম্পর্ক গভীর হয়। ১৯৮৪ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এখন শাবানা ও জাভেদ একসাথে জীবন কাটাচ্ছেন, এবং প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুনঃ ভোটের মুখে বড় বিতর্ক! তৃণমূল তারকা প্রার্থী সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ৬৮ লক্ষ টাকার প্রতা’রণার অভিযোগ! হাই কোর্টে মামলা দায়ের, রায় ঘোষণা কবে?

শাবানা আজ়মি বলিউডে ৫০ বছর পার করে ফেলেছেন। অভিনয়ে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। ‘স্পর্শ’, ‘আর্থ’, ‘মাসুম’, ‘মান্ডি’ এবং ‘বাজীরাও মস্তানী’-র মতো সিনেমায় অভিনয় দর্শকের মনে বিশেষ ছাপ ফেলেছে। শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় ও স্পষ্ট ভাষার জন্য তিনি সর্বদা পরিচিত। তার ব্যক্তিগত জীবন যতটা গুঞ্জনপূর্ণ, পেশাগত জীবন ততটাই সফল ও স্বীকৃত। আজও তিনি বলিউডের এক অনন্য ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী হিসেবে স্মরণীয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles