West Bengal SIR : ফর্ম ৭ নিয়ে দিনভর বিক্ষোভে উত্তাল রাজ্য, মৃত ভোটার ইস্যুতে চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন,১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল সময়!

ভোটার তালিকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ নতুন নয়। তবে গত কয়েক দিনে যে ছবি উঠে এসেছে, তা শুধু রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই আটকে থাকেনি, পৌঁছে গিয়েছে প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত। মৃত ভোটার, ভুয়ো নাম এবং তালিকা সংশোধন—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজ্যের একাধিক জেলায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিনের পর দিন চলা টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া ও ফর্ম ৭।

এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় কোনও ভোটারের মৃত্যু কিংবা স্থায়ী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নাম বাদ দিতে হলে ফর্ম ৭ জমা দেওয়াই নিয়ম। সেই নিয়ম মেনেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরা ফর্ম ৭ জমা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়ছেন—এমন অভিযোগ উঠে আসে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা-মঞ্চ থেকে ‘মৃত’ ভোটারদের হাজির করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে।

এই উত্তপ্ত আবহেই বৃহস্পতিবার ছিল মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার নির্ধারিত শেষ দিন। কিন্তু সেই দিন জুড়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফর্ম ৭ জমা নিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, বহু জায়গায় ফর্ম জমা নিতে অস্বীকার করা হচ্ছে, কোথাও আবার রিসিড দেওয়া হচ্ছে না। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা বিডিও অফিসের সামনে সেই অভিযোগ ঘিরেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, কয়েক হাজার ফর্ম জমা দেওয়া হলেও প্রশাসনের তরফে কোনও লিখিত প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়নি।

একই ধরনের ছবি ধরা পড়ে বাঁকুড়াতেও। সেখানে বিজেপির অভিযোগ, ফর্ম ৭ জমা দিতে গেলে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাধা দেয়। আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে আলিপুরদুয়ারে। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির তথ্য সম্বলিত নথি জমা দিতে গিয়েছিলেন বিজেপির বিএলএ-রা। কিন্তু সেই নথি গ্রহণ করতে এআরও অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। একের পর এক অভিযোগ ও বিক্ষোভে চাপ বাড়তে থাকে নির্বাচন কমিশনের উপর।

আরও পড়ুনঃ Indians Trapped in Iran: ‘প্রস্তুত থাকুন…’ ইরান থেকে যে কোনও মুহূর্তে দেশে ফিরতে পারে আটক ভারতীয়রা, অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে তৎপর নয়াদিল্লি!

শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতির মধ্যেই কমিশন সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়। মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার সময়সীমা ১৫ জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি করা হয়। দিনভর বিক্ষোভ-অবস্থানের পরেই এই নির্দেশিকা জারি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই সময় বাড়ানো শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি রাজনৈতিক চাপের ফল—তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে আপাতত এটুকু স্পষ্ট, ফর্ম ৭ ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিতে আরও দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles