সল্টলেকের ব্যস্ত সকালে হঠাৎই আতঙ্ক ছড়াল বহুল পরিচিত বেসরকারি হাসপাতালে আনন্দলোকে ঘিরে (Anandalok Hospital)। অগ্নিকাণ্ডের খবরে মুহূর্তে ছুটোছুটি শুরু হয় রোগী, আত্মীয়স্বজন এবং হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে। প্রথমে কেউ বুঝে উঠতে পারেননি ঠিক কী ঘটেছে, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় হাসপাতালের একটি বড় অংশ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, দ্রুত রোগী সরানোর কাজ শুরু করতে হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, দোতলার অপারেশন থিয়েটারের পাশের একটি এসি মেশিন থেকে শর্ট সার্কিট হয়েই আগুনের সূত্রপাত। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি জানলা দিয়ে প্রথমে আগুনের শিখা দেখা যায়, তারপর ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন কালো ধোঁয়া চারপাশ ঢেকে দেয়, যার জেরে আতঙ্ক আরও বাড়ে। হাসপাতালে থাকা বহু মানুষ তখন নিজেরাই বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত তৎপর হয় দমকল ও পুলিশ। দমকল কর্মীরা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন, পাশাপাশি রোগীদের নিরাপদে সরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারের আশেপাশে থাকা রোগীদের আগে সরানো হয়। একাধিক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হাসপাতালের এক কর্মী জানান, ধোঁয়া দেখা মাত্রই তাঁরা রোগীদের অন্য বিল্ডিংয়ে সরিয়ে নিয়ে যান, যাতে বড় কোনও বিপদ এড়ানো যায়।
এদিকে হাসপাতালের বাইরে উদ্বিগ্ন মুখে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বহু রোগীর আত্মীয়দের। কেউ ফোনে খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার সরাসরি ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনও রোগী আহত হননি এবং কেউ ভিতরে আটকে নেই। তবুও প্রতিটি তলা খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় সবাই নিরাপদে আছেন।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় রাজনৈতিক সং*ঘাত চরমে! একবালপুর কাণ্ডে ৩টি F*IR, রাকেশ সিংকে ঘিরে বি*তর্ক, পুলিশকে মার*ধর, বডি ক্যাম ছিনতাই অভিযোগে গ্রেফ*তার
এই ঘটনার পর অনেকেরই মনে পড়ে যায় আমরি হাসপাতালের ভয়াবহ স্মৃতি, যেখানে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। যদিও বর্তমান ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবুও পরপর দু’দিনে বর্ধমানের অন্নপূর্ণা নার্সিংহোমের পর সল্টলেকের এই অগ্নিকাণ্ড, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।





