করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে বছরের শেষেই ফের বাজবে ভোটের বাদ্যি, হবে পুরভোট, জানালেন ফিরহাদ হাকিম

করোনা সংক্রমণ যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে খুব শীঘ্রই হবে কলকাতার পুরভোট। গতকাল, শুক্রবার এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন কলকাতা পুরসভার মুখ্যপ্রশাসক তথা পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১৯শে ডিসেম্বর, রবিবার কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগরে পুরভোট করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার।

গতকাল, শুক্রবার কলকাতা পুরসভার বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ দেন ফিরহাদ হাকিম। সেখানেই তিনি বলেন, “যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েও করোনার জন্যই পুরভোট করতে পারেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পুজোর পর কোভিড সংক্রমণ সামান্য বেড়েছে, দৈনিক ২০০ উপরে যাচ্ছে। তবে অধিকাংশই উপসর্গহীন ও তীব্রতা প্রায় নেই। তাই যদি সবাই মাস্ক পরে, আরটিপিসিআর পরীক্ষা দিয়ে শনাক্ত করে তবে সংক্রমণ ফের একশোর নিচে চলে যাবে। আর সংক্রমণ কম থাকলে শিগগিরই আমাদের বকেয়া পুরভোটটা হয়ে যাবে”।

ভবানীপুরের উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনই মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন যে রাজ্যের বাকি চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন মিটে গেলে বাকি থাকা পুরভোটও মিটিয়ে ফেলতে চায় রাজ্য সরকার। এদিন বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ দিয়ে অবশ্য ফিরহাদ হাকিম পুরসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন নি।

তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, করোনা সংক্রমণ যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে আগামী ১৯শে ডিসেম্বর, রবিবার থেকেই হাওড়া, কলকাতা ও বিধাননগরে পুরভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। নভেম্বরে একমাস ব্যাপী শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। এই কারণে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়েই কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট করাতে চাইছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় নতুন করে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৭৩ এবং রাজ্যে মোট সংক্রমিত ৯৮২। গত কিছুদিন ধরেই কলকাতার সংক্রমণ হার প্রায় একই রয়েছে। এই কারণে গতকালের বিজয়া সম্মিলনীর সভাতেও ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরদের সংক্রমণ রুখতে শপিং মল থেকে বাজার, দোকান – সর্বত্র মাস্ক বাধ্যতামূলক করার উপর জোর দেন ফিরহাদ হাকিম।

শুধু তাই নয়, উন্নয়নের কাজ যা যা বাকি রয়েছে, তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেন বিদায়ী কাউন্সিলরদের। এদিনের এই বিজয়া সম্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মালা রায়, ডাঃ শান্তনু সেন, তিন বিধায়ক অতীন ঘোষ, দেবাশিস কুমার, দেবব্রত মজুমদার ও পুরপ্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য রতন দে, স্বপন সমাদ্দার প্রমুখ।

RELATED Articles