কলকাতার উত্তর প্রান্তের ‘সিঁথি’ সাধারণত শান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিনের মতোই বুধবার রাতেও সেখানে ব্যস্ততা কমছিল ধীরে ধীরে। কিন্তু সেই নীরবতা ভেঙে দেয় এক ভয়ঙ্কর ঘটনার শব্দ। স্থানীয়রা তখনও ভাবতে পারেননি, তাঁদের চেনা গলি এমন এক দুঃসাহসিক অপরাধের সাক্ষী হতে চলেছে।
বুধবার রাত আটটা নাগাদ রাজা অপূর্ব কৃষ্ণ লেনের একটি সোনার কারখানার সামনে ঘটে যায় এই ঘটনা। কারখানার কারিগর সঞ্জিতকুমার রায়, যাঁর বয়স প্রায় চুয়ান্ন বছর, সেদিন সন্ধ্যায় স্কুটি চেপে ফিরছিলেন কাজে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই কারখানায় কাজ করেন। কিন্তু সেদিনের রাতটা হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
সঞ্জিতবাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, গলির মুখে ঢোকার সময়ই তিনি দেখেছিলেন দু’জন যুবক দাঁড়িয়ে আছে। তাঁদের মুখে মাস্ক। প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু গেট খুলতে গিয়ে বিপদ ঘটে। হঠাৎই ওই দুইজনের মধ্যে সাদা পোশাক পরা এক যুবক বন্দুক তাক করে তাঁকে ভয় দেখায়। আতঙ্কিত সঞ্জিতবাবু চিৎকার করে ওঠেন, “আমায় মারবেন না।” কিন্তু ততক্ষণে দুষ্কৃতীরা তাঁর স্কুটি নিয়ে চম্পট দিয়েছে। স্কুটিতেই ছিল প্রায় ২ কেজি ৩৮০ গ্রাম সোনা।
সংবাদ মাধ্যমে সঞ্জিতবাবু বলেন, “ওই স্কুটিতেই সোনা ছিল। আমি চিৎকার করতেই কারখানার লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসে। কিন্তু তখন তারা অনেক দূরে পালিয়েছে।” তিনি আরও জানান, এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাঁর সন্দেহ, দুষ্কৃতীরা আগেই জেনে গিয়েছিল তিনি সোনা নিয়ে ফিরছেন। অর্থাৎ ভিতর থেকে কেউ খবর পৌঁছে দিয়েছিল বলেই মনে করছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Bihar Election : ক্ষমতায় ফিরলে এক কোটি সরকারি চাকরি! তেজস্বীর প্রতিশ্রুতির পাল্টা জবাবে নীতীশ–নড্ডাদের বড় ঘোষণা, বিহারের ভোটে চরম উত্তেজনা!
প্রায় আড়াই কেজি সোনার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সিঁথি এলাকায়। সিঁথি থানায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং সম্ভাব্য সূত্রের সন্ধান শুরু করেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত লুঠ, যেখানে দুষ্কৃতীরা নির্ভুলভাবে সময় ও স্থান বেছে নিয়েছিল। এখন পুলিশের একটাই লক্ষ্য — যত দ্রুত সম্ভব সোনা এবং অভিযুক্তদের খুঁজে বের করা।





