বিহারের রাজনীতি ফের সরগরম নির্বাচনের আবহে। রাস্তা থেকে পাড়া–মহল্লা, চায়ের দোকান থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্র এখন আলোচনা একটাই, কে গড়বে আগামী সরকার? মানুষের মুখে প্রশ্ন, উন্নয়ন আর কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি এবার কতটা বাস্তব হবে? এই উত্তেজনার মধ্যেই সামনে এলো এনডিএ-র নির্বাচনী ইস্তাহার, যা প্রকাশের পর থেকেই নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
শুক্রবার সকালে পটনায় সঙ্কল্প পত্র প্রকাশ করলেন শাসকজোট এনডিএ-র নেতারা। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা, হাম নেতা জিতনরাম মাঝি এবং এলজেপি (আর)-এর নেতা চিরাগ পাসওয়ান। উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি, নারী সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলিতেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে এই ইস্তাহারে। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— বিরোধী শিবিরের প্রতিশ্রুতির জবাব দিতে কি এবার এনডিএ ভোটারদের কাছে নতুন বার্তা দিতে চাইল?
সবচেয়ে আলোচনায় থাকা ঘোষণা— “ক্ষমতায় এলে এক কোটি সরকারি চাকরি।” এনডিএ জানিয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৈরি হবে ‘মেগা স্কিল সেন্টার’, যেখানে যুব সম্প্রদায়কে আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিই হবে বিহারের উন্নয়নের ভিত্তি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিশ্রুতি আসলে বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদবের ঘোষণার জবাব। কারণ, কয়েক দিন আগেই তেজস্বী বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনকে সরকারি চাকরির সুযোগ দেবেন তিনি।
ইস্তাহারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অতি অনগ্রসর সম্প্রদায় (EBC) ও সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের উন্নয়ন। এনডিএ জানিয়েছে, ওই শ্রেণির মানুষদের সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তাদের জন্য আলাদা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের রূপরেখা তৈরির উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিহারের ভোটে এই শ্রেণিই নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়, তাই তাদের মন জয় করতেই এই প্রতিশ্রুতি।
নারীদের জন্যও এনডিএ-র ইস্তাহারে বড় চমক। ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পকে এবার ‘মিশন কোটিপতি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন নীতীশ–নড্ডারা। এক কোটি মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় এনে প্রত্যেককে সর্বাধিক ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এনডিএ নেতৃত্বের দাবি, তাদের লক্ষ্য কেবল ভোট নয়, বরং বিহারের সামগ্রিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক ক্ষমতায়ন।
আরও পড়ুনঃ Dengue: ডেপুটি মেয়রের ওয়ার্ডে ডেঙ্গিতে ৭ বছরের মেয়ের মৃত্যু! কলকাতা পৌরসভার কাজ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!
এই ইস্তাহার প্রকাশের পর থেকেই বিহারের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা। একদিকে নীতীশ–নড্ডার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে তেজস্বীর পাল্টা আশ্বাস— ভোটের আগে রাজ্যের মানুষ এখন অপেক্ষায়, কে সত্যিই তাদের জীবনে কর্মসংস্থানের আলো আনতে পারে।





