গতকাল অর্থাৎ রবিবার সন্ধে নামতেই আচমকাই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে দক্ষিণ কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ব্যস্ত রাস্তা, ঘনবসতিপূর্ণ পাড়া—সবকিছু মিলিয়ে যেখানে সন্ধেবেলায় স্বাভাবিক জীবনযাপন চলে, সেখানেই হঠাৎ ভাঙচুর, চিৎকার আর বিস্ফোরণের শব্দে থমকে যায় সব। গোলপার্ক সংলগ্ন কাঁকুলিয়া রোড ও পঞ্চাননতলা এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। কী কারণে এমন তাণ্ডব, তা প্রথমে স্পষ্ট না হলেও আতঙ্ক ছড়াতে বেশি সময় লাগেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আচমকাই প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল এলাকায় ঢুকে পড়ে। শুরু হয় একের পর এক বোমা ছোড়া। সঙ্গে চলে কাচের বোতল, ইট-পাটকেল। ভাঙচুর করা হয় একাধিক বাইক, এমনকী কিছু বাড়ির ভেতরেও ঢুকে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গোটা ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং একাধিক দিক থেকে আক্রমণ করা হয়। এলাকাজুড়ে ছুটোছুটি, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দরজা-জানালা বন্ধ করে আশ্রয় নেন ঘরের ভিতরে।
এই হিংসার নেপথ্যে সিন্ডিকেট দখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ রয়েছে বলেই অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দুই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকেই এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির জন্ম। অভিযোগের আঙুল উঠছে স্থানীয় দুষ্কৃতি সোনা পাপ্পু ও তার দলবলের দিকে। এলাকাবাসীর দাবি, এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে এবং তার রাজনৈতিক যোগাযোগও নতুন নয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একজনকে চপার দিয়ে কোপানো হয় এবং গুলিও চলে। ঘটনায় গুরুতর জখম হন সনৎ সিং ও গণেশ দাস। সনতের মাথায় গভীর আঘাত লাগে, আর গণেশ গুলিবিদ্ধ হন। দু’জনকেই দ্রুত এসএসকেএম ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এখনও এলাকায় রক্তের দাগ চোখে পড়ছে, যা রাতের ঘটনার ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Balochistan Case : রক্তে ভিজেছে বালুচিস্তান! পাক সেনার পাল্টা আক্রমণে ধ্বংসের ছায়া!
ঘটনার কিছু দূরেই রবীন্দ্র সরোবর থানা থাকলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডিসি ভোলানাথ পান্ডে। এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু পলাতক। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তার ছবি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে, কিন্তু আতঙ্ক কাটেনি। বাসিন্দাদের একটাই প্রশ্ন—বারবার এমন হিংসা কেন, আর কবে ফিরবে স্থায়ী শান্তি?






