বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রদেশটির বিভিন্ন শহরে হঠাৎ সংঘাত ও সশস্ত্র হামলার খবর ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে, বাজার ও রাস্তা শুনশান, আর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ক্রমাগত সতর্ক অবস্থানে। এমন পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিকে এক নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বালুচিস্তানে সম্প্রতি বালুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) একাধিক সশস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলার জবাবে পাক সেনা, পুলিশ, সিটিডি এবং আধা-সেনা যৌথ অভিযান শুরু করেছে। সূত্রের দাবি, একে অলোপাথাড়ি আক্রমণ বলা যায়, যেখানে প্রায় ১৪৫ বালুচ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমন্বয় ও নিরাপত্তা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করা।
কোয়েটার বিভিন্ন এলাকা আগুন আর ধ্বংসের চিহ্নে ভরা। একটি পুলিশ স্টেশন কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, পুলিশের জিপ ধ্বংস হয়েছে। হামলায় নিহত হয়েছে ১৭ জন পুলিশ কর্মী এবং ৩১ জন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, গোয়েন্দা সূত্রে হামলার পূর্বাভাস পাওয়া সত্ত্বেও, এই আক্রমণ এত বড় আকার ধারণ করেছে যে রাজধানী প্রায় শঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে।
বিএলএ হামলার দায় স্বীকার করে ‘হেরোফ’ বা “কালো ঝড়” অভিযান চালাচ্ছে বলে ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীকে বেছে বেছে লক্ষ্য করা হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার বলছে, এই হামলায় সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার অভিযান জুড়ে বহু বিদ্রোহী নিহত ও আটক হয়েছে, যা পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ধর্মের নামে রাজনীতি, না রাজনীতির নামে ধর্ম? ‘জয় শ্রীরাম’ বিতর্কে হিংসা, সভার মাঝেই আক্রা*ন্ত হিন্দু সাধু!
বালুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় এবং দরিদ্র প্রদেশ। কয়েক দশক ধরে এখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলেছে। সরকারকে তারা স্বাধীনতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অংশীদারিত্ব দাবি জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে প্রদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অবস্থা আরও বিপন্ন হতে পারে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, বাজার স্থবির, আর নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে। বালুচিস্তান পুনরায় শান্তির পথে ফিরবে কি না, তা প্রশ্নবিদ্ধ।





