Jadavpur University : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে CCTV-নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন কবে?কোটি টাকার বরাদ্দ থাকতেও তৎপরতা নেই—হাইকোর্টের কঠোর প্রশ্নের চাপে বিশ্ববিদ্যালয়!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে নজরদারি, ছাত্রাবাসের ভেতরের পরিস্থিতি, রাতের নিরাপত্তা—এই সবকটি বিষয় নিয়ে নানা আলোচনা চলেছে বিভিন্ন মহলে। বড় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এখানে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা দ্রুতই চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দাবি গত কয়েক বছরে আরও জোরালো হয়েছে, বিশেষ করে অভিভাবক ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে।

এই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার বিষয়টি নতুন দিক পেল কলকাতা হাইকোর্টে। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক কবে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন হবে এবং ক্যাম্পাসের কোন কোন জায়গায় সিসিটিভি বসানো হবে—এই সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারকে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই জমা দিতে হবে এই রিপোর্ট। আদালতের এই নির্দেশে বোঝাই যাচ্ছে, বিষয়টি আর টালবাহানা বা আলোচনার মধ্যে আটকে থাকবে না, বরং দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগোতে হবে।

আদালতের নির্দেশের পাশাপাশি জানা গেছে, নিরাপত্তা আঁটসাঁট করতে রাজ্যের অর্থ দপ্তর ইতিমধ্যেই ৬৭ লক্ষ টাকারও বেশি বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ দিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন সিসিটিভি বসানো, পুরনো নজরদারি ব্যবস্থা সংস্কার এবং নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে কোন ভবনে কতগুলি ক্যামেরা লাগবে বা কখন থেকে নিরাপত্তা-রক্ষী মোতায়েন শুরু হবে—এসব বিস্তারিত তথ্যই আদালত এখন জানতে চেয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা থাকায় স্বাভাবিকভাবেই এখন প্রস্তুতির চাপ বাড়বে প্রশাসনের উপর।

তবে এই আলোচনার শুরু কিন্তু আজকের নয়। ২০১০ সালেই প্রথমবার সিসিটিভি বসানো শুরু হয়েছিল তৎকালীন উপাচার্য প্রদীপনারায়ণ ঘোষের সময়ে। সেই সময় ক্যাম্পাসে ১৬টি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের পর সেগুলি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে ২০১৩ সালে উপাচার্য সৌভিক ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। ২০১৪ সালে উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী তাঁর অফিস ও করিডরের সামনে ক্যামেরা লাগালে ফের তীব্র বিরোধিতা শুরু হয় এবং তখনই ‘হোক কলরব’ আন্দোলন সামনে আসে। ফলে ক্যাম্পাসে নজরদারি—বিশেষত সিসিটিভি নিয়ে বিতর্ক কখনোই থামেনি।

আরও পড়ুনঃ Budh Rashifal: বিশাখা নক্ষত্রে বুধের প্রবেশে বড় পরিবর্তন তিন রাশির ভাগ্যে

এবার আদালতের সরাসরি হস্তক্ষেপে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে বহুদিনের ঝুলে থাকা নিরাপত্তা বিষয়ক সমস্যাগুলির কোনও স্থায়ী সমাধান সামনে আসতে পারে। আগামী এক সপ্তাহে জমা পড়া হলফনামাতেই পরিষ্কার হবে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্য আসলে কী ধরনের সময়সীমা বেঁধে কাজ শুরু করতে চলেছে। আর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ডিসেম্বরের শুনানিতে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে, যা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ করে দেবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles