Bangladesh: ভোটের ঠিক আগে বাংলাদেশে ফের নৃশং*স হত্যাকাণ্ড! হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হিন্দু যুবকের দেহ!

আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ভোট। ৩০ বছরের বেশি সময় পর এটি এমন নির্বাচন, যেখানে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না। কিন্তু ভোটের আগের দিন থেকেই দেশজুড়ে একটি অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার মৌলবীবাজার জেলার চা বাগানে ২৮ বছর বয়সী হিন্দু যুবক রতন সাহুয়াকারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে একাধিক গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহ উদ্ধার করার সময়ও রক্ত ঝরছিল, যা নির্দেশ করছে, সম্প্রতি অত্যন্ত নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রতন সাহুয়াকারের সহকর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডকে খুন বলেই চিহ্নিত করেছেন।

কেবল রতন নয়, কয়েকদিন আগেও ময়মনসিংহ জেলার এক হিন্দু ব্যবসায়ী সুষেন চন্দ্র সরকারকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন করা হয়। ৬২ বছরের ব্যবসায়ী সুষেনকে তার দোকানের শাটার বন্ধ করার পর হত্যা করা হয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করা হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ধারাবাহিক ঘটনায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশের পুলিশ জানিয়েছে, দেশজুড়ে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৪ হাজার কেন্দ্রকে “স্পর্শকাতর” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে ৯ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও ড্রোন এবং বডিক্যামের মাধ্যমে নজরদারি চলবে। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনাগুলো ভোটের আগে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee : “কোনও রাস্তা, কোনও গলি যেন বাদ না যায়”—বিএলওদের বাড়ি বাড়ি যাচাই করার নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

এই পরিস্থিতিতে ভোট কতটা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে তা এখন নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে। অন্তর্বর্তী প্রশাসন যতই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দাবি করুক না কেন, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। রতন সাহুয়াকারের মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন সবাই আশা করছে, ভোটের দিন যেন শান্তিপূর্ণভাবে নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নতুন সরকার গঠনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles