কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আজ সকাল থেকেই ছিল উত্তেজনার আবহে ভরা। জনমানুষের ভিড়, উত্তেজিত স্লোগান, এবং রাজনৈতিক উত্তাপ—সব মিলিয়ে মঞ্চ যেন রাজনীতির চরম উত্তাপে ভাসছে। ব্রিগেডের ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এখানকার প্রতিটি ঘটনা জনসাধারণের নজরকাড়া হয়ে থাকে।
আজ সেই উত্তাপের কেন্দ্রে ছিলেন মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া এই নেতা সকালেই ব্রিগেডে আসেন কোরান পাঠের আসর পরিদর্শনে। তবে তাঁকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের একাংশ কর্মী-সমর্থক ‘গো ব্যাক, গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হলেও হুমায়ুন নির্বিকার থাকেন।
হুমায়ুন কবীর মাঠ ঘুরে দেখেন, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে কে কী বলল, তাতে তার কিছু যায় আসে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যারা বাধা দিতে চায়, তাদের বলি, আমার সমাবেশ হবেই। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার।” তিনি আরও জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা পুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করবেন এবং সব কিছু আইনের পথে পরিচালিত হবে।
তিনি দাবি করেন, তার সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হবেন, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও ২৪ পরগনা জেলা থেকে। হুমায়ুন বলেন, “এটা কোনও দলের সভা নয়, এটি জনগণের সভা। যারা রাজ্যে দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে চান, তারা আসবেন।”
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari on West Bengal SIR: “তৃণমূলের আপত্তি গণতন্ত্রে বাধা, এসআইআর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করবে” — দাবি শুভেন্দু অধিকারীর!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিগেডে এই সমাবেশ হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। দীর্ঘদিনের তৃণমূল বিরোধ এবং দলের প্রতি অসন্তোষের কারণে তিনি স্বতন্ত্র নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। কেউ কেউ বলছেন, এই সভা ভবিষ্যতে নতুন দল গঠনের পথও প্রসারিত করতে পারে।





