টানা সাড়ে আট ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) দপ্তর থেকে বেরিয়ে এলেন টালিউড অভিনেত্রী নুসরত জাহান। অভিনেত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁর সঙ্গী যশ দাশগুপ্ত। বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের উত্তরে নুসরত বলেন, “আপনারা খবর নিয়ে নিন।” তবে কিছুটা চিন্তিত এবং ক্লান্ত দেখা গেল অভিনেত্রীকে। সেই সময় সাংবাদিকদের সামনে নুসরত কিছু বিশেষ তথ্য দেননি, কিন্তু ঘটনা নিয়ে অনেক জল্পনা তৈরি হয়েছে। নুসরত যে ইডি দপ্তরে হাজির হয়ে অনেক সময় কাটিয়েছেন, তা থেকেই স্পষ্ট যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।
নুসরত জাহানকে ইডি দপ্তরে তলব করা হয়েছিল রেশন দুর্নীতির মামলায় তাঁর নাম উঠে আসার পর। কিছুদিন আগে বাংলাদেশের গম পাচারের ঘটনায় নুসরত বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন, এই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, আসল তদন্তের বিষয় ছিল একটি ফ্ল্যাট দুর্নীতি মামলা। এই মামলায় নুসরত জাহানের নাম উঠে এসেছে, যেখানে রাজারহাট এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ফ্ল্যাট তৈরি করার দায়িত্বে থাকা সংস্থার একজন ডিরেক্টর ছিলেন নুসরত।
ইডি সূত্রে খবর, এ মামলার তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং নতুন কিছু তথ্য হাতে এসেছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ফ্ল্যাট বিক্রির সময় আর্থিক লেনদেনের একটি সুত্র পাওয়া গেছে। সেই সূত্র থেকেই অভিনেত্রীকে ডেকে পাঠানো হয়। তাছাড়া, কিছুদিন আগেও নুসরতকে কলকাতার ইডি দপ্তরে হাজিরার জন্য ডাকলেও, তিনি দিল্লিতে থাকবেন বলে জানিয়ে ছিলেন। তবে ইডি তাঁর এই আর্জি গ্রহণ করেনি এবং কলকাতার দপ্তরেই হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বুধবার সকালে টালিগঞ্জের নিজের বাড়ি থেকে নুসরত সঙ্গী যশকে নিয়ে ইডি দপ্তরের উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছান নুসরত। সাদা সালোয়ার-কামিজ পরা নুসরত কিছুটা চিন্তিত মুখে গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি ইডি দপ্তরে প্রবেশ করেন। তাঁকে দেখে পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছিল, এটি কোন সাধারণ বিষয় নয়, বরং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি তদন্তের অংশ। এই সময় তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রশ্নের ঢল নামে।
আরও পড়ুনঃ ‘মুখ্যমন্ত্রী এভাবে ঢুকে পড়লে গণতন্ত্র প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়’ আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ, ভোটের আগে বাড়ল বিত*র্ক!
শেষ পর্যন্ত, সাড়ে আট ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নুসরত ইডি দপ্তর থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মন্তব্যে বেশি কিছু জানাননি। তবে তাঁর সঙ্গী যশ দাশগুপ্তও তাঁর পাশে ছিলেন, যদিও তিনি কোন মন্তব্য করেননি। এদিকে, ইডি এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং শীঘ্রই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আশঙ্কা রয়েছে। এবারের এই জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।





