সমুদ্র পথে মাছ ধরতে যাওয়া মানুষের জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, তা নতুন করে বুঝিয়ে দিল দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকার খবর। পরিবারের অভাব পূরণ করতে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করা বহু মৎস্যজীবীর মধ্যে কেউ ফিরে আসে, আবার কেউ হারিয়ে যায় জলসীমার জটিল নিয়মে। ঠিক এমনই এক আবেগঘন ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে দু’দেশের সীমান্ত পেরিয়ে ফিরলেন একদল ভারতীয় মৎস্যজীবী। তবে তাঁদের মধ্যে একজন আর জীবিত নেই।
দু’দেশের হাইকমিশনের দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ভারতের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তিনটি ট্রলার—‘এফবি মা মঙ্গলচণ্ডী-৩৮’, ‘এফবি ঝড়’ এবং ‘এফবি পারমিতা’। এই তিন ট্রলারে মোট ৪৮ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী ছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় একজনের। বাকি ৪৭ জন মঙ্গলবার ভারতীয় উপকূলরক্ষীদের হাতে হস্তান্তরিত হয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন। একই সঙ্গে ভারতের জেলে আটক ৩৭ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকেও তাঁদের দেশে পাঠানো হয়েছে।
মারা যাওয়া মৎস্যজীবীর নাম বাবুল দাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনার হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার এলাকার বাসিন্দা বাবুল জন্মগতভাবে মূক-বধির ছিলেন। জুলাই মাসে ‘এফবি মঙ্গলচণ্ডী-৩৮’ ট্রলারে চেপে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা হয়েছিলেন তিনি। ভুল করে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করার অভিযোগে ১৫ জুলাই তাঁদের আটক করে বাংলাদেশের নৌসেনা। পরে মংলা বন্দরের কাছে গ্রেফতার হয়ে তাঁরা আদালতের নির্দেশে জেলে যান।
কিন্তু নভেম্বরের শেষে বাবুলের পরিবারের কাছে বাংলাদেশ থেকে খবর আসে—কারাবন্দি অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। খবরটি পাওয়ার পর থেকেই পুরো পরিবার ও গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। কিন্তু এখানেই ওঠে বড় এক প্রশ্ন। পরিবারের দাবি, বাবুল কোনও রোগে ভুগতেন না, শারীরিক দিক থেকেও সবল ছিলেন। তাঁর ভাই বাসুদেব দাস জানান, “দাদা মূক-বধির হলেও অত্যন্ত শক্তসমর্থ ছিল। ওকে হার্ট অ্যাটাক বলে মানা যায় না।”
আরও পড়ুনঃ Mamata banerjee : ‘৫১ হাজার কোটি আটকে রেখেছে কেন্দ্র!’— কোচবিহারের মঞ্চে বিস্ফোরক দাবি, শ্রম কোডের কাগজ ছিঁড়ে প্রতিবাদ মমতার!
পরিবারের অভিযোগ, বাবুলের মৃত্যু নিছক অসুস্থতা নয়—জেলের ভিতর অত্যাচারের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বাবুলকে খুন করা হয়েছে বলেই তাঁরা আশঙ্কা করছেন। এখন প্রশ্ন, সত্য কী? বাবুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে কী কোনও স্বচ্ছ তদন্ত হবে? পরিবারের সেই দাবি পূরণ হবে কি না, সেদিকে তাকিয়ে গোটা এলাকা।






