Mamata banerjee : ‘৫১ হাজার কোটি আটকে রেখেছে কেন্দ্র!’— কোচবিহারের মঞ্চে বিস্ফোরক দাবি, শ্রম কোডের কাগজ ছিঁড়ে প্রতিবাদ মমতার!

রাজ্য–কেন্দ্রের সংঘাত যে ভোটের মরসুমে আরও চওড়া হচ্ছে, সেই আভাস যেন ফের মিলল কোচবিহারের সভামঞ্চে। ১০০ দিনের কাজের অর্থ আটকে যাওয়া নিয়ে রাজ্যে ক্ষোভ বাড়ছিলই। কিন্তু সোমবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ধরা একটি কাগজ যেন সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিল। কী ছিল সেই কাগজে? কেনই বা তিনি জনসমক্ষে সেটি ছিঁড়ে ফেললেন—এসব নিয়েই রাজনৈতিক মহল সরগরম।

দু’দিনের সফরে কোচবিহারে গিয়ে মমতা প্রথমে কেন্দ্রের নীতি ও আচরণ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। এরপর ধীরে ধীরে মূল অভিযোগটি সামনে আনেন তিনি। তাঁর দাবি, সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে নতুন শ্রম কোডের প্রতিলিপি রাজ্যের হাতে এসেছে। আর সেই আইনের মাধ্যমেই ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নতুন ‘শর্ত’ আরোপ করা হয়েছে। মমতার ভাষায়, এই শর্ত রাজ্যবাসীর প্রতি অসম্মানজনক—এমন কিছু রাজ্য কোনও ভাবেই মেনে নেবে না।

এরপরই তিনি হাতের কাগজটি দেখিয়ে বলেন, “তিন-চার দিন আগে একটি নোটিস এসেছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা পেতে নতুন শর্ত চাপানো হয়েছে। আমরা এগুলো মানি না, মানবও না।” কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি কাগজটি ছিঁড়ে ফেলেন। মমতার দাবি, এটি কেন্দ্রের পাঠানো আসল নোটিস নয়, বরং প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তিনি নিজের কাছে থাকা প্রতিলিপিটি ছিঁড়েছেন। তবে বার্তাটি স্পষ্ট—নতুন শ্রম কোড রাজ্যে কার্যকর হবে না।

নতুন শ্রম কোড নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানও আগে থেকেই জানা। ৪৪টি পুরনো শ্রম আইনকে একত্র করে চারটি কোডে সাজানো হয়েছে, যাতে মজুরি কাঠামো, কাজের নিয়ম এবং শ্রমিক সুরক্ষা আরও একীভূত হয়। বহু রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই কোড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু বাংলার তরফে আগেই জানানো হয়েছিল—এই আইন রাজ্য গ্রহণ করবে না। যদিও কিছু বেসরকারি সংস্থা ইতিমধ্যেই নতুন বিধি মানতে শুরু করেছে বলে জানা যায়।

আরও পড়ুনঃ Viral video : আমিষ বিক্রির অভিযোগে বিক্রেতাকে কান ধরে ওঠবোস, গীতাপাঠের ময়দানে চাঞ্চল্যকর মারধরের ভিডিও ভাইরাল!

সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা আরও অভিযোগ করেন, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে এখনও রাজ্য ৫১,৬১৭ কোটি টাকা পায়নি। তাঁর কথায়, “তোমাদের দয়ার দরকার নেই। আমরা চাইলে নিজেদের উদ্যোগেই কাজ তৈরি করতে পারি। ক্ষমতায় ফিরলে কর্মশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে নিজেদের ১০০ দিনের কাজ দেব।” তাঁর এই মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর আরও চড়া হয়ে ওঠে। আর কাগজ ছিঁড়ে ফেলার সেই প্রতীকী মুহূর্ত—দিনভর রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles