দূর্গাপুজোর সময় সাধারণত কলকাতার বাড়ি এবং আশেপাশের প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সবাই মণ্ডপে ভিড় জমিয়ে আনন্দ উদযাপন করে। রঙিন আলো, বেলুন আর নতুন জামাকাপড়ের মাঝে পরিবার-বন্ধুর সঙ্গে কাটানো সময়ই বছরের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু এক পরিবার এবার এই আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি বরং দুর্গাপুজোর দিনগুলো ঘিরে ছিল শুধু শোক আর নিঃসঙ্গতার ছায়া।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ইংরেজি অনার্স ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের জীবন অল্প বয়সেই থমকে গিয়েছে। পুজোর কয়েকদিন আগেই, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিলপাড় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরা এখনও এ ঘটনা মানতে পারছেন না। অনামিকার বাবা অর্ণব মণ্ডল ও মা মীনাক্ষীদেবী এবারের পুজোতে ঘরবন্দি ছিলেন, কারণ তাদের একমাত্র কন্যাকে হারানোর ব্যথা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
উত্তর দমদম পুরসভার নিমতার ললিত গুপ্ত স্ট্রিটের মিষ্টু নামের পরিচয়ে পরিচিত অনামিকা শান্ত, মেধাবী এবং মিশুক স্বভাবের। ছোটবেলা থেকেই মিষ্টু ছিলেন পাড়া-প্রতিবেশী ও পরিবারের অহংকার। প্রতি বছরের মতো ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পাড়ার মণ্ডপে ছোটদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতেন তিনি। কিন্তু এই বছর, তার শোকে পরিবার পাড়ার মণ্ডপেও উপস্থিত থাকতে পারেনি। মিষ্টুর স্মৃতিতেই ঘরে বসেই তারা পুজো কাটিয়ে দিয়েছেন।
পুজোর জন্য কেনা জামাকাপড়ও ব্যবহার হয়নি। অর্ণববাবু জানান, “বিশ্ববাংলা হাট থেকে মিষ্টুর জন্য শাড়ি ও অন্যান্য পোশাক কিনেছিলাম। তবে পুজোর সময় সেই জামাকাপড় শেষকৃত্যের জন্য সংরক্ষণ করেছি। মেয়ে ভিড় পছন্দ করত না। তাই চতুর্থী ও পঞ্চমীতে বন্ধুদের সঙ্গে প্যান্ডেল হপিং করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছুই অসময়ে থেমে গেল।”
আরও পড়ুনঃ ড্রাইভারের চক্রান্তে ১২ লাখ টাকার জালিয়াতি! ফারহান আখতারের পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা, গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত
পরিবারের জন্য এবারের দুর্গাপুজো কেবল শোকের ছায়ায় ঘেরা। মা মীনাক্ষীদেবী মেয়ের সঙ্গে পাড়ার মণ্ডপে থাকার কথা স্মরণ করলেও এবার ঘরে বসেই দেবী দর্শন করেছেন। অনামিকার স্মৃতিই তাদের এই পুজোর একমাত্র সঙ্গী। অর্ণববাবু জানিয়েছেন, “মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়েই পুজো পার করেছি। ভবিষ্যতেও তার স্মৃতি আমাদের সঙ্গে থাকবে।”





