দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা বরাবরই সংবেদনশীল বিষয়। একদিকে সহযোগিতার বার্তা, অন্যদিকে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ—এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই দীর্ঘদিন ধরে এগিয়েছে ভারতের কূটনীতি। সাম্প্রতিক সময়ে সেই বাস্তবতা আবার নতুন করে সামনে এসেছে। অতীতের ক্ষত এখনও শুকোয়নি, আর তারই প্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ঠিক এমনই এক সময়ে বিদেশমন্ত্রীর মুখে উঠে এল প্রতিবেশী সম্পর্ক নিয়ে কড়া কিন্তু বাস্তববাদী মন্তব্য।
সম্প্রতি মাদ্রাজের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে ভারতের নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ। সেখানেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভারত কী করবে বা কী করবে না—তা অন্য কোনও দেশ ঠিক করে দিতে পারে না। তাঁর বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ছাপ। তিনি বোঝান, জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে।
আলোচনার কেন্দ্রে আসে পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও দেশবাসীর মনে তরতাজা। বিদেশমন্ত্রী বলেন, কোনও দেশ যদি বিনা উসকানিতে, পরিকল্পিতভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরাধ নয়, বরং অধিকার। তিনি সরাসরি জানান, খারাপ প্রতিবেশী থাকা দুর্ভাগ্যজনক হলেও বাস্তবতা এটাই। আর সেই বাস্তবতার মোকাবিলায় ভারত নিজের জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
এই প্রেক্ষিতেই উঠে আসে সিন্ধু জলচুক্তির বিষয়টি। পহেলগাঁও হামলার পর থেকে এই চুক্তি কার্যত স্থগিত। বিদেশমন্ত্রী বলেন, বহু বছর আগে সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে জল বণ্টনের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু যখন এক দেশ দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাসের শিকার হয়, তখন ভাল প্রতিবেশীর মতো আচরণ প্রত্যাশা করা অবাস্তব। তাঁর কথায় স্পষ্ট বার্তা—একদিকে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে সুযোগ-সুবিধা দাবি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও পড়ুনঃ RG KAR case : — এগজিকিউটিভ কমিটি নিয়ে মতবিরোধ, আইনি পরামর্শ উপেক্ষার অভিযোগ—WBJDF থেকে ইস্তফা অনিকেত মাহাতোর!
বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, ভারত কখনওই অমানবিক আচরণে বিশ্বাসী নয়। যদি কোনও প্রতিবেশী দেশ ক্ষতি না করে বা সহযোগিতার মনোভাব দেখায়, তাহলে ভারত বরাবরই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই মানবিকতার সুযোগ নিয়ে যদি নিরাপত্তা বিপন্ন করা হয়, তাহলে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করা হবে না। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—ভারতের কূটনীতি এখন আবেগে নয়, বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়েই এগোবে।






