নতুন বছরের শুরুতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক আবহে যেন আলাদা একটা উত্তেজনা। বারুইপুরের রণসংকল্প সভায় জমায়েতের ভিড়, স্লোগান আর আবেগ—সব মিলিয়ে স্পষ্ট ছিল, এই সভা শুধু আর পাঁচটা রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষের চোখে ছিল কৌতূহল, কারণ অনেকেই আন্দাজ করছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে এবার থাকতে পারে ভিন্ন কোনও চমক। প্রথম থেকেই সভার মেজাজ ছিল আক্রমণাত্মক, তবে কী নিয়ে এত ক্ষোভ, তা তখনও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।
মঞ্চে ওঠার আগে ব্রিগেডের ধাঁচে র্যাম্প ধরে হাঁটলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে বারুইপুর যেন মুহূর্তে গর্জে উঠল। বক্তব্যের শুরুতে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান বিজেপিকে। এসআইআর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, যত শক্তি আছে বিজেপি প্রয়োগ করুক, তাতে তৃণমূলের আসন কমবে না, বরং বাড়বেই। অতীত টেনে এনে তিনি মনে করান, ২০০৮ সালে পরিবর্তনের প্রথম চাকা দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই ঘুরেছিল। এবার লক্ষ্য আরও স্পষ্ট—ভাঙড় জিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩১টির মধ্যে ৩১টি আসন দখল।
ঠিক তখনই সভার মোড় ঘুরে যায়। অনেকেই ভাবতে পারেননি, এর পর এমন দৃশ্য দেখা যাবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই র্যাম্পে উঠে এলেন দুই ভদ্রলোক ও এক ভদ্রমহিলা। অভিষেক নিজেই তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন—মণিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি ও মায়া দাস। তাঁদের সামনে রেখেই শুরু হয় নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করা। তিনি বলেন, এঁরা সবাই জীবিত, অথচ নথিতে এঁদের মৃত দেখানো হয়েছে। মেটিয়াব্রুজ ও কাকদ্বীপের বাসিন্দা এই তিনজনকে দেখিয়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন কমিশন কি এঁদের দেখতে পাচ্ছে না?”
অভিষেক দাবি করেন, শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই এমন ২৪ জন রয়েছেন, যাঁরা জীবিত হয়েও সরকারি খাতায় মৃত। র্যাম্পে হাঁটতে হাঁটতে তিনি বলেন, “আপনারা কি কখনও মৃত মানুষকে র্যাম্পে হাঁটতে দেখেছেন?” এই মন্তব্যে সভাস্থলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁর কথায়, এই কারণেই র্যাম্প বানানো হয়েছে—যাতে যাঁদের ‘অদৃশ্য’ করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সবাই দেখতে পান।
আরও পড়ুনঃ India-Pakistan Relation : ‘খারাপ প্রতিবেশী থাকলে সুবিধা মিলবে না’—পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা এস জয়শঙ্করের!
বক্তব্যের শেষ পর্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুর চড়িয়ে বলেন, যতদিন তৃণমূল আছে, ততদিন কোনও মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। দিল্লি অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আজ রাস্তায় ও মাঠে যে জনসমাগম হয়েছে, তার এক তৃতীয়াংশ যদি দিল্লিতে যায়, তাহলে তার প্রভাব অস্বীকার করা যাবে না। নতুন বছরের শুরুতেই এই সভা স্পষ্ট করে দিল—এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূল যে আরও আগ্রাসী পথে হাঁটতে চলেছে, তার ইঙ্গিত এখানেই।





“উত্তম কুমারের ছেলের সঙ্গে দেবলীনার বিয়ে হয়েছে” রাসবিহারীর দলীয় প্রার্থী দেবাশিস কুমারের মেয়েকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে শোরগোল!