পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোশাক ও জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা চলে এসেছে। সাদা সুতির শাড়ি, হাওয়াই চপ্পল এবং কাঁধে শান্তিনিকেতনী ব্যাগ তাঁর পরিচিত পরিচ্ছদ। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি নিয়মিত রূপচর্চা করতেন এবং সেই কাজে নাকি কসমেটোলজিস্ট কেয়া শেঠের সাহায্য নিতেন, এমন একটি গুঞ্জন বহু বছর ধরে শোনা যেত। সম্প্রতি সেই প্রসঙ্গেই এই সময় ডিজিটালের কাছে মুখ খুলেছেন কেয়া শেঠ।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবারও এই পুরনো আলোচনা সামনে আসে। নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলাফলের পরে অনেকেরই দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেহারায় মানসিক চাপের ছাপ স্পষ্ট। সেই সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তিনি কি রূপচর্চা বন্ধ করে দিয়েছেন? এই জল্পনার জবাবে কেয়া শেঠ স্পষ্ট জানান, তাঁর সঙ্গে মমতার রূপচর্চার কোনও সম্পর্ক ছিল না এবং এই পুরো বিষয়টি নিছক গুজব।
কেয়ার বক্তব্য, ২০১১ সালের আগে একটি সংবাদমাধ্যম তাঁকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের রূপচর্চা নিয়ে মতামত জানতে চেয়েছিল। তিনি সাধারণ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন মাত্র। কিন্তু পরবর্তীতে সেই কথাকেই বিকৃত করে প্রচার করা হয় যে তিনি নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত রূপচর্চার দায়িত্বে ছিলেন। ধীরে ধীরে সেই গল্প আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই সেটাকে সত্যি বলে ধরে নিতে শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, মমতার সঙ্গে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল না। কোনও দলীয় মঞ্চে, কর্মসূচিতে বা প্রচারে তাঁকে কখনও দেখা যায়নি। কেয়ার দাবি, এমনকি মমতার ঘনিষ্ঠ মহলের কিছু মানুষও এই গুজবকে বাড়িয়ে তুলেছিলেন। তিনি জানান, নিজের ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে, যা প্রমাণ করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোনও সুবিধা তিনি কখনও পাননি।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার নাম খারাপ হচ্ছে, দিনের পর দিন এটা চলতে পারে না!’ মিমিকে নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ালেই আইনি পদক্ষেপ, হঠাৎ কেন এই হুঁশিয়ারি অভিনেত্রীর?
তবে মমতার বর্তমান শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কেয়া বলেন, বড় রাজনৈতিক ধাক্কা বা মানসিক চাপ মানুষের চেহারায় প্রভাব ফেলতেই পারে। তাঁর মতে, একজন মানুষ রূপচর্চা করবেন কি করবেন না, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। একইসঙ্গে নতুন সরকারের কাছে ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। তাঁর আশা, আগামী দিনে বাংলায় শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।






