দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক নিয়ে এখন রাজ্য-মেট্রো সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। দক্ষিণেশ্বরে মেট্রো সম্প্রসারণের জন্য রাজ্যের কাছে জমি চেয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এর জন্য দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াকের কিছু অংশ ভাঙা পড়বে। কিন্তু তা হতে দিতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, এমন কিছুই করতে দেবেন না তিনি।
কী বললেন মমতা?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক হৃদয়ের মণিমুক্তো। শেষ রক্তবিন্দু থাকতে ভাঙতে দেব না। প্রয়োজনে আমি বিকল্প রুট করে দেব। বুদ্ধি খরচ করুন”। তিনি আরও বলেন, “আলিপুর বডিগার্ড লাইন পুলিশের হৃদয়ের মণিমুক্তো। রাজ্যের ঐতিহ্য। এর কোনওটাই ভাঙতে দেব না”।
রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কী কী কাজ করেছেন, সেই খতিয়ানও এদিন তুলে ধরেন মমতা। বলেন, “মেট্রো রেলের যত প্রজেক্ট, প্রত্যেকটা আমার করা। দক্ষিণেশ্বর-নোয়াপাড়া আমি উদ্বোধন করে এসেছিলাম। নোয়াপাড়া-দমদম আমার করা”।
কেন এই সংঘাত?
আসলে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশন সংস্কার করতে চাইছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত মেট্রোর সংখ্যা বাড়াতে ও চলাচল মসৃণ করার জন্য লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়াতে চায় মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এর জন্য রাজ্যের কাছে জমি চাওয়া হয়েছে। তবে সেই জমি দিতে গেলে দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াকের একাংশের কিছুটা অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। তাতেই নারাজ মমতা। সেই নিয়ে এদিন মেট্রোর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন তিনি।
এদিন মমতা এও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন রেলমন্ত্রক সামলেছি। কোনও সমস্যা হলে কীভাবে সমাধান করতে হয়, তা আমি জানি। বাংলায় মেট্রো জোন আমরা তৈরি করেছিলাম। দিল্লি মেট্রেরা সমস্যা আমি দূর করেছিলাম। আমি না থাকলে দিল্লি মেট্রো হতোই না”।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী এও জানান রেলমন্ত্রী থাকাকালীন কীভাবে গোটা দেশের নানান প্রান্তে কাজ করেছেন তিনি। তিনি সেদিন না থাকলে দিল্লি মেট্রোও হত না বলে দাবী মমতার। তাঁর সাফ বার্তা, “যেটা সহযোগিতা করার মতো, তেমন কিছু চাইলে সরকার সব সময় হাত বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু যদি দীর্ঘদিনের মূল্যবান হেরিটেজ ভেঙে ফেলার চেষ্টা হয়, সেটা আমি করতে দেব না। দক্ষিণেশ্ব আজকের নয়। দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াকে হাত দিতে হলে, বিবেকানন্দ-রামকৃষ্ণের কথা মনে করতে হবে। কিছুতেই ভাঙতে দেব না”।





