দুর্গাপুরের এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ফের নাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যবাসীর মন। শুক্রবার রাতে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে দ্বিতীয় বর্ষের এক মেডিকেল ছাত্রীকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি মাত্র এক বছর আগের আরজি কর হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে একজন জুনিয়র চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল। ছাত্র, অভিভাবক এবং চিকিৎসক মহলে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—নিজের শিক্ষাঙ্গনেই কি আর নিরাপদ নয় মহিলা ছাত্রীরা?
দুর্গাপুরের শোভাপুরের কাছে অবস্থিত ওই বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ছেন জলেশ্বরের বাসিন্দা ওই তরুণী। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে আটটার সময় এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে তিনি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়েছিলেন। ক্যাম্পাসের গেটের কাছেই আচমকা একজন অচেনা ব্যক্তি তাকে জোর করে হাসপাতালের পিছনের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় এবং সেখানেই নিগ্রহের শিকার হন তিনি বলে অভিযোগ। ঘটনার পরপরই মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসের নজরদারি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, মেডিকেল কলেজের কর্মচারী থেকে শুরু করে ওই ছাত্রীটির সঙ্গে থাকা বন্ধুকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে একাধিক তথ্য উঠে এলেও এখনই কিছু প্রকাশ করতে রাজি নয় পুলিশ। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতি ছিল না, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে কলেজ প্রশাসনের ভূমিকাকে ঘিরে।
অন্যদিকে, ধর্ষিতার বাবা সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘটনার খবর তিনি মেয়ের বন্ধুর কাছ থেকে পান। তিনি বলেন, “আমি যখন হাসপাতালে পৌঁছাই, তখন মেয়ের অবস্থা বিপজ্জনক ছিল। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।”
আরও পড়ুনঃ Kashmir :অভিযানের মাঝেই তুষারঝড়ে প্রাণ হারালেন বাংলার দুই জওয়ান, শহিদ পলাশ-সুজয়ের মৃত্যুর শোকের ছায়া বাংলা জুড়ে!
নির্যাতিতার বাবার কণ্ঠে একটাই দাবি—ন্যায়বিচার। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের জন্য আমি একটিমাত্র স্বপ্ন দেখেছিলাম—একজন ডাক্তার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হোক সে। কিন্তু আজ ওর জীবনটাই হুমকির মুখে। অন্য কোনও মেয়ের যেন এই পরিণতি না হয়।” তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্রে ঘটনার সঠিক বিবরণ এবং অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দুর্গাপুরের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে রাজ্যের ছাত্র মহল এবং চিকিৎসা মহলে—একটি প্রশ্নই ঘুরছে সবার মুখে, “কীভাবে ক্যাম্পাসের মধ্যেই এমন নির্মমতা ঘটল?”






