দেশজুড়ে এক অভিনব অভিযানে নামছে কেন্দ্রীয় সরকার। অফিসের পুরনো আলমারি, জীর্ণ ফাইল, অকেজো গাড়ি — যেগুলো এতদিন শুধু জায়গা দখল করে বসেছিল, এবার সেই “আবর্জনা”ই হয়ে উঠেছে সরকারের আয়ের উৎস। সাধারণত সরকারি দফতরের ভেতরে পুরনো কাগজপত্র ফেলে রাখা হয় বছরের পর বছর, কিন্তু এবার সেগুলোকেই কাজে লাগিয়ে এক অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত গড়েছে কেন্দ্র।
প্রশাসনিক দফতরগুলিতে চলছে “সাফাই অভিযান”। আগামী ২ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ফের এক দফা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধুই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং প্রশাসনের অপ্রয়োজনীয় ফাইল ও সরঞ্জাম সরিয়ে জায়গা খালি করা। বিগত কয়েক বছরে এই উদ্যোগে যে ফলাফল মিলেছে, তা সত্যিই নজরকাড়া।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অকেজো ফাইল, বাতিল কাগজপত্র, পুরনো যানবাহন বিক্রি করে কেন্দ্রীয় সরকার এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছে। অর্থাৎ, ভারতের ঐতিহাসিক চন্দ্রযান প্রকল্পে যে খরচ হয়েছিল, ঠিক তার সমান অর্থ এসেছে এই “আবর্জনা বিক্রি” থেকেই। অগস্ট মাস পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, আর সরকারের আশা, অক্টোবরে সেই অঙ্ক ছুঁতে পারে হাজার কোটির গণ্ডি।
প্রথম সাফাই অভিযান শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। সেবারে আয় হয়েছিল ৬২ কোটি টাকা। পরের বছর সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭১ কোটিতে। সরকারের দাবি, এ বছর অন্তত ৪০০ কোটি টাকা আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আয় কেবলমাত্র বিক্রি নয়, বরং প্রশাসনিক জায়গা খালি করার ক্ষেত্রেও তা বড় ভূমিকা রাখছে।
এখনও পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ৩১ লক্ষ সরকারি ফাইল সরানো হয়েছে। এতে মুক্ত হয়েছে প্রায় ১৮৫ লক্ষ বর্গফুট জায়গা। দ্বিতীয় দফায় সরকারের ১.০১ লক্ষ অফিসে এই অভিযান চলেছিল, আর তৃতীয় দফায় লক্ষ্য রাখা হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ ঠিকানা। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, এতে প্রশাসনিক গতি যেমন বাড়ছে, তেমনই দেশের পরিচ্ছন্নতার দিক থেকেও বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারত।
আরও পড়ুনঃ Delhi Bla*st : ২৬ জানুয়ারি টার্গেট ছিল দিল্লি! আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাম্মিলের মুখে ফাঁস ভয়ঙ্কর গোপন তথ্য!
এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, প্রশাসনিক দিক থেকেও এক মাইলফলক হয়ে উঠছে। “বাতিল কাগজ” বিক্রি করে যদি “চন্দ্রযান”-এর সমান আয় হয়, তবে এ যে সত্যিই দেশের “মহাকাশে ওঠা”র মতো এক নতুন রেকর্ড — তা বলাই যায়।






