কলেজ মানে যেখানে ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে, সেখানেই যদি ছায়ার মত লুকিয়ে থাকে শিকারির চোখ, তবে কীভাবে নির্ভয়ে হাঁটবে পড়ুয়ারা? কসবা ল কলেজের একাধিক শারীরিক নির্যাতনের ঘটনার মাঝে এবার সামনে এল আরও এক প্রাক্তনীর গলায় কাপা কাপা বর্ণনা। সে শুধু নিগৃহীতা নয়, এক ভয়ঙ্কর বাস্তবের সাক্ষ্যদাত্রী। আর যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে আর কেউ নয়, বরং মনোজিৎ মিশ্র—যার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চলছে একাধিক অভিযোগ ও তদন্ত।
নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটে এক তথাকথিত পিকনিকের দিনে। প্রথমে বলা হয়েছিল এটি কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজিত পিকনিক, কিন্তু পরে জানা যায়—এটি ছিল শুধুমাত্র মনোজিৎ মিশ্রের ব্যক্তিগতভাবে পরিকল্পিত এক ঘৃণ্য চক্রান্ত। দিনের শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যা গড়াতেই ঘটে বিপর্যয়। নির্যাতিতার বাবার ফোন আসায় সে একটু নিরিবিলি ঘরে ঢুকে ফোনে কথা বলছিল। ঠিক সেই সময়ে সেখানে এসে দরজা বন্ধ করে দেন মনোজিৎ মিশ্র।
নির্যাতিতার কথামতে, সে বারবার অনুরোধ করছিল যেন দরজা বন্ধ না করা হয়, কিন্তু মনোজিৎ তখন ছিল ভয়ংকর মদ্যপ অবস্থায়। সে কেবল দরজা বন্ধ করেনি, ধীরে ধীরে জামার বোতাম খুলতে থাকে, বিকৃত হাসিতে তার দিকে এগিয়ে আসে। এরপর আচমকা চুলের মুঠি ধরে তাকে দেয় থাপ্পড়, শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং নানা শারীরিক অংশে কামড়ে দেয়—এইভাবে চলতে থাকে নারকীয় অত্যাচার।
নির্যাতিতার চোখে তখন আতঙ্কের ছায়া। অথচ সেই সময় মনোজিৎ যা বলেছিল তা যেন আরও ভয়ঙ্কর। সে বলে, “তুই একবার আমায় তোর কাছে আসতে দে, আমি তোর নামে কালীঘাটের সাত বিঘা জমি লিখে দেব।” এক বিকৃত প্রস্তাব, যেন নারীকে শুধুই এক ভোগ্য বস্তু ভাবা যায়—এই মনোভাব থেকেই বেরিয়ে আসে এমন শব্দ।
আরও পড়ুনঃ Panihati : অপারেশনের নামে প্রতারণা! পানিহাটির নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যসাথীর টাকার লোভে রোগীর অজান্তেই অ্যাপেনডিক্স অপসারণ!
এই ঘটনার পরে প্রশ্ন উঠছে—মনোজিতের এই লালসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পেছনে কি কারও মদত ছিল? কারণ, এই প্রথম নয়। মনোজিতের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী এর আগে অভিযোগ এনেছেন, বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে দুই কলেজ ছাত্র—জাইব আহমেদ ও প্রমিত মুখার্জিও। শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকায় এতদিন নিজেকে ‘পীর-পীতাম্বরের’ থেকেও বড় মনে করত মনোজিৎ—এখন একের পর এক নির্যাতিতার বয়ানে ফুটে উঠছে সেই দানবীয় মুখ।





