চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভরসা আগেও ছিল, এখনও আছে। কিন্তু যখন সেই ভরসাতেই চির ধরাতে শুরু করে, তখনই শঙ্কা জাগে—এমন পরিস্থিতি যদি আমার বা আপনার সঙ্গে হয়! উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এলাকায় ঘটে যাওয়া এক রোগীর অভিজ্ঞতা যেন সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিল। চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঠিক কোন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হল তাঁকে, তা ভাবলে গা শিউরে ওঠে।
পানিহাটির ১ নম্বর দেশবন্ধু নগরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাস দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন হার্নিয়ার সমস্যায়। অভিযোগ, তিনি চিকিৎসার জন্য এক বেসরকারি নার্সিংহোমে যান, যেখানে কর্মরত এক চিকিৎসক তাঁকে বলেন নিজের পরিচিত নার্সিংহোমেই অস্ত্রোপচার করাতে। চিকিৎসক আশ্বাস দেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করেই সেই অস্ত্রোপচার করা যাবে। সেই ভরসাতেই রাজি হন বিশ্বজিৎ। পরে জানা যায়, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হার্নিয়ার চিকিৎসায় কোনও অর্থসাহায্য পাওয়া যায় না।
রোগীর পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ—স্বাস্থ্যসাথীর টাকা পেতে হার্নিয়ার বদলে রোগীর অ্যাপেনডিক্স কেটে ফেলা হয়। রোগী ও তাঁর পরিবারের দাবি, বিষয়টি নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা জানান, অপারেশন সফল হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই ব্যথা ফিরে আসে। শরীরে আবারও হার্নিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, এবং অস্ত্রোপচারের স্থান ফুলে ওঠে।
চিন্তিত পরিবারের সদস্যরা ইউএসজি (USG) পরীক্ষায় নিয়ে যান বিশ্বজিৎকে। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, হার্নিয়া এখনও রয়ে গিয়েছে এবং সেই স্থানে কোনও অস্ত্রোপচারের চিহ্ন নেই। তখনই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে। পরে জানা যায়, আসলে তাঁর অ্যাপেনডিক্স অপসারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Kasba ra*pe case: নির্যাতিতার আইনজীবী কে? কসবা ধর্ষণ*কাণ্ডে সামনে আসা অরিন্দম কাঞ্জিলালকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক!
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ফোন ধরছেন না। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষও কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। বিশ্বজিতের পরিবারের তরফে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। তবে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প এবং বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।





