Connman Arrested: ১৩টি রাজ্যের পুলিশের চোখে ধুলো, বন্ধুত্বের ছলেই কোটি টাকার লুট—অবশেষে বিধাননগর পুলিশের ফাঁদে পড়ল প্রতারক!

বছরের পর বছর ধরে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছে সে। পুলিশের চোখের সামনে দিয়েই হাওয়া হয়ে যেত প্রতিবার। ১৩টি রাজ্যের পুলিশ নাকানিচোবানি খেয়ে অবশেষে যাঁর হদিস পেয়েছে, সেই চতুর প্রতারক এখন বিধাননগর পুলিশের জালে। রবিবার রাতের অভিযানে পাঁচ বছরের তল্লাশির অবসান ঘটিয়ে একাধিক রাজ্যের সবচেয়ে ‘ওয়ান্টেড’ ঠগবাজকে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অভিযুক্ত দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা। সম্ভবত বেঙ্গালুরুতেই তাঁর বাড়ি, তবে পরিবারের সঙ্গে বহুদিন আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তিনি। বাবা-মা ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করার পর থেকেই দেশের নানা শহরে ঘুরে বেড়াতেন তরুণ প্রতারকটি। বড় বড় শহরে ঘোরার নাম করে হোটেল ভাড়া নিতেন। সেখানে কোনও ডরমেটরি জাতীয় রুমে থেকে অতি নিপুণভাবে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর প্রতারণার আস্তানা।

হোটেলে আসা অতিথিদের মধ্য থেকেই কাউকে বন্ধুর মতো ঘনিষ্ঠ করে নিতেন তিনি। সহজেই বিশ্বাস জয় করতেন কথাবার্তায়। আর তারপরই শুরু হত আসল খেলা। মাঝরাতে বন্ধুর ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ল্যাপটপ, মোবাইল—সব কিছু নিয়েই চুপিচুপি উধাও হয়ে যেতেন অভিযুক্ত। অভিযোগ, এই কার্ডগুলিই ছিল তাঁর মূল টার্গেট। পরে হোটেল ছেড়ে পালিয়ে তিনি ওই কার্ড দিয়ে দামি পণ্য কিনতেন বা টাকা তুলতেন। আশ্চর্যের বিষয়, ঠকানো টাকায় কেনা জিনিস নিজের কাছে রাখলেও, লুট করা কার্ডগুলো আবার সেই বন্ধুর ঠিকানায় স্পিড পোস্টে ফেরত পাঠাতেন প্রতারকটি—যেন এক অদ্ভুত ‘নৈতিকতা’ বজায় রাখার চেষ্টা!

তদন্তে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রতারিতদের টাকাতেই প্রায় পনেরোটি দামি মডেলের আইফোন কিনেছেন ওই ব্যক্তি, যার মোট মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। আরও বিস্ময় বাড়িয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে প্রায় চল্লিশটি সিম কার্ড, একাধিক আধার কার্ড এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা একাধিক প্রতারণা মামলায় তাঁর নাম ছিল। তাই ১৩ রাজ্যের পুলিশ পরস্পর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে সারাক্ষণ নজরদারিতে রেখেছিল তাঁকে, কিন্তু প্রতিবারই হাত ফসকে পালিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ শ্রেয়স আইয়ার, ICU-তে ভর্তি টিম ইন্ডিয়ার সহ-অধিনায়ক

অবশেষে বিধাননগর পুলিশের বিশেষ দল কিছু সূত্র ধরে জানতে পারে তাঁর বর্তমান অবস্থান। রবিবার রাতে কেরলের দিকে পাওয়া যায় তাঁর ‘কারেন্ট লোকেশন’। সময় নষ্ট না করে রাতের বিমানে রওনা দেয় একটি বিশেষ টিম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর অবশেষে ধরা পড়েন সেই অভিযুক্ত, যার পিছু নিয়ে এতদিন হিমশিম খাচ্ছিল গোটা দেশের প্রশাসন। পুলিশের দাবি, তাঁর গ্রেফতারির পর বহু অমীমাংসিত প্রতারণা মামলার অবস্থারও সমাধান হবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles