একটা ছোট্ট শিশু যখন খেলার মধ্যে মগ্ন থাকে, তখনও জীবনের অমর্যাদা কতটা দ্রুত এসে ঠেকে দিতে পারে, তা ভেবেই চোখে জল আসে। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে যেখানে বছরের নয়েকের একটি শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবার এবং প্রতিবেশীরা শুরুতেই তাকে খুঁজতে থাকে, কিন্তু নিখোঁজের সেই দু ঘণ্টা যেন দুঃস্বপ্নের মতো দীর্ঘ হয়ে যায়।
শিশুর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়, কিন্তু রাত ভরেও কোনো হদিশ মেলেনি। বাধ্য হয়ে শিশুর পরিবার পুলিশে নিখোঁজের ডায়েরি করে। তবে অভিযোগ, পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমন সময় শনিবার সকালে বাড়ির কাছের একটি পুকুরে শিশুর মৃতদেহ ভেসে ওঠে, যা ত্রিফলে মোড়া অবস্থায় ছিল। খুলে দেখা যায়, সেটি নিখোঁজ শিশুর দেহ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুর খুনের পেছনে একটি প্রতিবেশী দম্পতির হাত আছে। দু’পরিবারের মধ্যে আগেই বিবাদ ছিল। শিশুর দেহ পাওয়ার পরেই জনতা রেগে ফেটে পড়ে। ওই দম্পতিকে তুলে আনা হয় এবং তারা বেধড়ক পিটিয়ে মারা যায়। এ সময় কিছু বাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয় এবং পাশের চটের গুদামে আগুন লাগানো হয়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, যদি পুলিশ নিখোঁজ শিশুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হতো, তাহলে হয়তো শিশু এবং দম্পতির জীবন রক্ষা করা যেত। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই বিপদ এড়ানো সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই।
আরও পড়ুনঃ SSC examination : SSC শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫ কঠোর নিরাপত্তা ও সিকিউরিটি ফিচার নিয়ে নতুন নিয়ম! পরীক্ষার আগেই একগুচ্ছ নিয়ম প্রকাশ!
এটি ঘটেছে নদীয়ার তেহট্টের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব চলছিল, যা এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে এক বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং খুনের সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।





