বাঁচল তিলোত্তমার ফুসফুস! ছট পুজো হল না রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে

করোনা আবহে শহরের এই বছরের ছট পুজোর (Chhath Puja) ছবিটাও কিছুটা আলাদা। শহরের দুই ফুসফুস রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরে প্রত্যেক বছর ছটে বিশৃঙ্খলা ও ছট পরবর্তী দূষণ নিয়ে বরাবরই সরব হয়েছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

আর এবার এই দুই সরোবরে ছট না হ‌ওয়ার আগাম নির্দেশ জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টও। আর তাই দুই আদালতের নির্দেশে রবীন্দ্র সরোবর (Rabindra sarobar) ও সুভাষ সরোবরে (Subhas sarobar) ছট পুজো রুখতে বিরাট পুলিশবাহিনী নিয়োগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West bengal government)।

আর এঁদের সৌজন্যেই শনিবার সকালে তাই শহরের দুই বড় জলাধারে ছট পুণ্যার্থীদের ভিড় চোখে পড়েনি। শহরের এই দুই প্রখ্যাত জলাধারে ছট পুণ্যার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পরিবেশবিদরা। শুক্রবার দুপুরে রবীন্দ্র সরোবরকে আড়াল করে তৈরি করা হয় ব্যারিকেড। পরে অবশ্য যা জোর করে অতিক্রমের চেষ্টা করেন একদল পুণ্যার্থী। পুলিশি তৎপরতায় তাঁদের সামনে থেকে সরানো হয়।

অবাঙালিদের ভোট নিশ্চিত করতে সব জেনেও চোখ বুজে রয়েছে প্রশাসন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করে এমনই অভিযোগ এর আগে তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী নেতারা। তা সত্ত্বেও শহরের দুই বৃহত্তম সরোবরে ছট পুজো পালনের তাগিদে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্ট এবং পরে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয় কলকাতা পুর নিগম। সেই আবেদন নাকচ করে দুই আদালতই। ছট পুজোর বার্তায় এ বছর বাড়িতেই ছট পুজো পালনের জন্য আবেদন জানান মমতা।

উল্লেখ্য, ছট পুজোর জন্য গত কয়েক দিনে বেশকিছু এলাকায় অস্থায়ী জলাধারও তৈরি করেছে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য, গত বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো পালনের উপরে কলকাতা হাই কোর্টের জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, শহরের আর এক ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত সুভাষ সরোবরের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাই কোর্টের বিভাগীয় বেঞ্চ।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই দুই সরোবর বর্তমান শহুরে আবহাওয়ায় কিছুটা হলেও প্রাকৃতিক আমেজ দেয় তিলোত্তমাকে। রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে শীতে বহু পরিযায়ী পাখির সমাবেশ হয়। তা ছাড়া স্থায়ী বাসিন্দা পক্ষীকুলও সেখানে রয়েছেন। পক্ষীবিদ সুদীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘চার বছর পরে রবীন্দ্র সরোবরে ডজন খানেক পেইন্টেড স্টর্ক এসেছে। তারা হ্রদের মাছের দ্বীপে বাসা বেঁধেছে। এ বছরে এখনও পর্যন্ত ১২২ প্রজাতির পাখি এই সরোবরে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক হেডেড কাক্কুশ্রাইক, ওয়ান লেগডবাজার্ড, চেঞ্জেবল হক ঈগল, সুইনহো’জ মিনিভেট, পায়েড হ্যারিয়ার ও ব্রাউন হেডেড গাল। ২০১৮-২০১৯ সালে ছটপুজোয় আতসবাজির দাপটে বেশ কিছু প্রজাতির পাখি এখান থেকে মুছে গিয়েছিল। আশা করি শনিবার সকালে তেমন কোনও বেআইনি ঘটনা ঘটবে না।’

RELATED Articles