করোনার জেরে বন্ধ রয়েছে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে বেসরকারি স্কুল বন্ধ থাকলেও দিতে হবে পুরো ফি। বেসরকারি স্কুলগুলির এমন দাবিতে সমস্যায় পড়েছেন অভিভাবকরা। এমনিতেই লকডাউনের মধ্যে সবারই আর্থিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে স্কুলগুলিও যদি এমন দাবি করে তবে কোথায় যাবেন অভিভাবকরা।
নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে গিয়ে বিপদে পড়েছেন অনেক বাবা-মাই। বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ে অভিযোগ করতে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেন, “রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করলে যেমন রোগীর চিকিৎসার বিল মেটাতেই হয়, তেমনই বেসরকারি স্কুলে নিজের সন্তানকে ভর্তি করলে তার ফিও দিতেই হবে।”
বেহালা ওরিয়েন্ট ডে স্কুলের সামনে ফি মুকুবের দাবিতে আজ সকাল থেকেই বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, স্কুল থেকে অভিভাবকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যদি আন্দোলনের পথে হেঁটে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান তবে কিন্তু সমস্যায় পড়বে তাঁদের সন্তানরা।
এমনকি স্কুলের তরফে এও বলা হয়েছে, স্কুলের ফি দিতে যদি বাড়ির জিনিসপত্র বেচে দিতে হয় তবে তাই করুক অভিভাবকরা। নাহলে ওই স্কুলে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে না ছাত্রছাত্রীদের। তবে অভিভাবকরাও তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে স্কুলের বাড়তি মাইনে তাঁদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। করোনার চলতে রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলির অমানবিক মুখ বারবার সবার সামনে চলে আসছে। রাজ্য সরকার কি এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে না, এমন প্রশ্নও অনেকের মনেই উঠেছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে কবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে গেছে তা এই পরিস্থিতি না এলে মনে হয় মানুষ জানতেই পারত না।






