ভালবাসায় মোড়া দেড়টা ঘন্টা, হাসি মুখে চোখে জল আনল ‘দিল বেচারা’

ছবি: দিল বেচারা
পরিচালনা: মুকেশ ছাবরা
অভিনয়: সুশান্ত সিং রাজপুত, সঞ্জনা সাংঘি, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, সাহিল বেদ প্রমুখ
রেটিং: ৩.৫/

অবশেষে এল বহু প্রতীক্ষার ক্ষণ। ঘোষিত সময় অনুযায়ী ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার বেশ কিছুটা আগেই ডিজনি হটস্টারে রিলিজ হল অভিনীত শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’। আপামর ভারতবাসী মোবাইল বা কম্পিউটার যেখানেই হোক লগ ইন করলেন হটস্টারে, দেখতে শুরু করলেন এক জীবন্ত প্রেম কাহিনী!

কাহিনীটা কী হবে তা এতদিন মোটামুটি জেনে গিয়েছে সবাই। জন গ্রীন এর উপন্যাস দ্য ফল্ট ইন আউর স্টার্স এর হিন্দি নাট্যরূপ ‘দিল বেচারা’। যারা এই বইটা ইতিমধ্যেই পড়েছেন অথবা হলিউড সিনেমাটি দেখে নিয়েছেন তারা গল্পের গতি প্রকৃতি সহজেই আন্দাজ করতে পেরেছেন। ছবির পরিচালক মুকেশ ছাবরার পক্ষে দর্শকদের ধরে রাখার জন্য এর হিন্দি নাট্য রূপান্তরকে যথেষ্ট আকর্ষক করে তুলতে হত এবং ১ ঘন্টা ৪১ মিনিট সিনেমাটি দেখার পর বলা যায় যে তিনি সফল!

ছবি শুরু হয় কিজি বাসু তথা নবাগতা সঞ্জনা সাংঘির মনোলগ দিয়ে। থাইরয়েড ক্যান্সার আক্রান্ত কিজি তার বোরিং জীবনের গল্প বলতে শুরু করে। ছবির ঠিক 8 মিনিটের মাথায় দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্তের নাচ দিয়ে পর্দায় আগমন ঘটে সুশান্ত সিং রাজপুত ইমানুয়েল রাজ কুমার জুনিয়র এর। ‌যাঁকে আমরা গোটা সিনেমায় ম্যানি বলেই চিনব। সে নিজে অস্টারসারকোমা ক্যান্সারে আক্রান্ত যার জেরে তাঁর ডান পা অ্যামপুট করতে হয়েছে। তবু নাচে-গানে বাস্কেটবল খেলায় তার জীবনে কোনও ছেদ পড়েনি। ম্যানির জীবনের অন্যতম লক্ষ্য রজনী আওয়াথে, স্বপ্নে জাগওয়াথে নামে একটি সিনেমা বানানো। আর কিজি বাসুর স্বপ্ন গায়ক অভিমন্যু বীরকে খুঁজে তার থেকে জানা যে ‘ম্যায় তুমহারা’ গানের অ্যালবাম কেন সম্পূর্ণ করেননি গায়ক। এখানে অভিমন্যু বীরের চরিত্রে অভিনয় করছেন সইফ আলি খান। বাকি গল্পে কিজি ও ম্যানি তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে কিনা সেটা জানতে গেলে হটস্টারে সিনেমাটা দেখতেই হবে। শুধু এটুকু বলা যেতে পারে যে জীবনে যতটুকু সময় পাওয়া যায় ততটুকু যে খুলে বাঁচতে হয় সেটা শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে ম্যানি।

সুশান্ত সিং রাজপুতের অভিনয় নিয়ে আশাকরি দ্বিতীয় কোন শব্দ লেখা উচিত হবে না। নবাগতা হিসাবে সঞ্জনা ভালো। ছবিতে যেহেতু নায়িকা বাঙালি চরিত্র তাই কিছুটা হলেও বাঙালিয়ানা ফুটে উঠেছে এই ছবিতে। কিজি বসুর বাবার চরিত্রে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও মায়ের চরিত্রে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় যথাযথ। পার্শ্ব চরিত্র হিসেবে ম্যানির বন্ধু জগদীপ পান্ডে তথা সাহিল বেদ উল্লেখযোগ্য। কিন্তু ক্যামিও চরিত্রে ওইটুকু সময়ের জন্য সইফ আলি খান কোনরকম স্ক্রিন প্রেজেন্স ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। গোটা ছবিটি অতিরিক্ত চরিত্র বর্জিত।

ছবির প্রথম ও শেষ ভাগ শুটিং হয়েছে জামশেদপুরে। মাঝে ১৫ থেকে ২০ মিনিট শ্যুটিং প্যারিসে হয়েছে, ওইটুকু সময়েই শুধুমাত্র প্যারিসের আইফেল টাওয়ার না দেখিয়ে প্যারিসের রাস্তাঘাটকে ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ছবির চিত্রনাট্য ঠিকঠাক কিন্তু বেশ কিছু জায়গা একটু অতিরিক্ত মনে হয়েছে। ছবির সংলাপ ভালো এবং কমিক টাইম অভিনেতাদের যথাযথ। বিশেষ করে সুশান্ত সিং রাজপুতকে আপনি চোখে জল মুখে হাসি নিয়ে দেড় ঘন্টা ধরে দেখে যাবেন।

ছবির আবহ সঙ্গীত নিয়ে কোনোরকম উচ্চবাচ্য করা উচিত নয়। কোথায় স্লো ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর যাবে, কোথায় ইনটেন্স এইসবই ভরপুর মজুত রয়েছে সিনেমায়। ছবির সুরকার এ.আর রহমান তাই ছবিতে গানের কোয়ালিটি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ কোন প্রশ্ন তোলেননি। টাইটেল ট্র্যাক ছবির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে রোমান্টিক টিন এজ সময়কে ধরেছে। এ.আর রহমান স্বয়ং এই টাইটেল ট্র্যাক গেয়েছেন। বাকি গানগুলিতে অরিজিৎ সিং, শ্রেয়া ঘোষাল, সুনিধি চৌহান এর মতো শিল্পীরা নিজের জাত চিনিয়েছেন। আর গানের কথা লিখেছেন বঙ্গসন্তান অমিতাভ ভট্টাচার্য সুলালিত শব্দ সমষ্টি মানুষের মনকে ছুঁয়ে যাবে।

ছবির শেষ বেশ কয়েকটা মিনিট আপনি যখন দেখবেন আপনার মনে হবে আপনি বাস্তবে যে সুশান্ত সিং রাজপুতের জন্য এটাই করতে হবে তা কখনও ভাবেননি। হাতের কাছে রুমাল নিয়ে বসবেন ছবিটা দেখবে কারণ চোখে জল আসবেই। কষ্টের মধ্যেও প্রাণখুলে বেঁচে থাকার কথা বলবেন সুশান্ত। সুশান্ত সিং রাজপুতের স্বতঃস্ফূর্ত সদা হাস্যময় নেচার ও অভিনয় দেখে আপনার মনে হবেই বড় তাড়াতাড়ি চলে গেল ছেলেটা।

‘দিল বেচারা’ হোপলেস রোম্যান্টিক নয়, হোপফুল রোমান্টিসিজমের গল্প বলে। এই ছবি দেখে আপনি হতাশ হবেন না এটুকু বলা যেতে পারে।

RELATED Articles

Leave a Comment