গার্ডেনরিচ কাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে হইচই পড়েছে। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে রাজ্য সরকারকে দুষছে বিরোধীরা। ইঞ্জিনিয়ার ও অফিসারদের ধমক দিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এবার বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। এই ঘটনায় রাজ্যের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে আদালত।
গার্ডেনরিচে বহুতল ভেঙে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা রাকেশ সিং গত মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাঁর আইনজীবী জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে দাবী করেছিলেন, গার্ডেনরিচে এখন একটা বাড়ি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু সেখানে এমন বেআইনি অনেক নির্মাণ রয়েছে যা ভেঙে পড়তে পারে। এই ঘটনায় আদালতকে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়।
আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল। এদিন বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম প্রশ্ন করেন, গার্ডেনরিচের ঘটনায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন, রাজ্য তাদের পুনর্বাসনের জন্য কী পদক্ষেপ করেছে। তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে বলে নির্দেশ দেন বিচারপতি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে, এসব রিপোর্ট আদালতকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
এদিন প্রধান বিচারপতি বলেন, “দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কী করবে? এদের অবস্থা গুলি ছাড়া সৈনিকদের রাইফেল নিয়ে বর্ডারে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার মতো। তারা টু হুইলারে করে যাবে এলাকায়, তারপর লোকের হাতে মার খাবে”।
প্রত্যেক পঞ্চায়েত ও সব জায়গায় মনিটরিং সেল থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিচারপতি। এদিন তিনি এও বলেন, “যে সমস্ত অফিসারদের বেআইনি নির্মাণ যাতে না হয় তা দেখার দায়িত্ব দেওয়া রয়েছে, তাদেরকেই নিযুক্ত করা হয়েছে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে”।
পরিস্থিতি বুঝিয়ে বিচারপতি বলেন, “মনে করুন আপনি প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে হাফ লরি বালি, এক লরি ইট নির্মাণস্থলের সামনে রাখলেন। সঙ্গে সঙ্গে গুপ্তচর চলে আসবে, যাতে এলাকার কাউন্সিলর জানতে পারেন। কিন্তু যদি আমি কোনও অনুমতি না নিয়ে তিন লরি বালি আর দু লরি ইট নির্মাণস্থলে নিয়ে যাই, তাহলে কেউ আসবে না”।
তিনি আরও বলেন, “সবথেকে খারাপ ব্যাপার হল, এরা জঘন্যভাবে এই সব নির্মাণ করে, তারপর বেচে দিয়ে চলে যায়”। বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, জলাশয়ের উপর নির্মাণ করতে অনেক গভীরে ভিত তৈরি করতে হয় যার জন্য খরচ অনেক বেশি।






