রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জীবন আবারও নজরকাড়া খবরের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন। তবে এই জামিনের সঙ্গে একাধিক শর্ত জড়িত, যা পার্থকে মুক্তভাবে চলাফেরা করতে দেবে না। পুজোর আগে এই ঘটনাটি রাজ্যবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, পার্থ কোনও সাক্ষীর সঙ্গে দেখা বা কথা বলতে পারবেন না। পাশাপাশি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে পার্থ আপাতত বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং কোনও পাবলিক অফিসের দায়িত্বও নিতে পারবেন না। হাইকোর্টের এই শর্তগুলো শোনা মাত্রই আইনজীবীদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, পুজোর আগে পার্থ জেল থেকে বাড়ি ফিরবেন কি না।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে বিচার চলছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ইডি প্রথম গ্রেফতার করে পার্থকে। পরে সিবিআইও একই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে। পার্থ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা এবং বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। এই ঘটনায় পার্থ ও অর্পিতা সকলের নজরকেন্দ্রে আসে।
হাইকোর্ট পার্থকে কয়েকটি শর্ত মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি এলাকায় বাইরে যেতে পারবেন না, কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করতে পারবেন না, পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং মাসে এক
বার তদন্ত অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে হবে। এছাড়া মোবাইল নম্বর দিতে হবে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। এই শর্তগুলো মেনে চললে পার্থ প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিনে মুক্তি পাবেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কারণে পার্থ আপাতত জেলেই থাকবেন।
আরও পড়ুনঃ Trump meets Shehbaz & Munir: শেহবাজ ও মুনিরের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গোপন বৈঠক ট্রাম্পের! আলোচ্য বিষয় ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র জল্পনা!
নিয়োগ দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় পার্থের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছে। প্রাথমিক মামলায় পার্থের জামিন পেলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে চার্জ গঠন ও সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হতে হবে। এই কারণেই অনেক আইনজীবীর ধারণা, পার্থ পুজোর আগে জেল থেকে বাড়ি ফিরলেও পুরোপুরি মুক্তি পাবেন না। এভাবে পুজোর সময় রাজ্যের রাজনৈতিক ও আদালতজীবনের উত্তেজনা নতুন এক রূপ নিতে পারে।





