কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার দুর্গাপুজোর আনন্দ যেন এবার আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। শহরের এই নামকরা পুজোমণ্ডপে ভক্তদের ভিড় এবং উৎসবের হুল্লোড়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আগমন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কোণে উৎসবের প্রস্তুতি, মণ্ডপ সাজসজ্জা এবং থিম প্রদর্শনীর দৃশ্য দেখতে ভক্তরা অপেক্ষায় ছিলেন। অমিত শাহও মণ্ডপে পা রাখার আগে নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেন – “মায়ের কাছে প্রার্থনা করলাম যাতে ভোটের পর বাংলায় শান্তি ফিরে আসে।”
শুরুটা হয়েছিল শান্ত এবং সাদাসিধে আঙ্গিক দিয়ে। সাধারণ ভক্তরা মন্দিরের দিক থেকে মণ্ডপে প্রবেশ করছিলেন, শিশুরা তাদের রঙিন পোশাক এবং আনন্দের হাসিতে মণ্ডপকে প্রাণবন্ত করে তুলছিল। তবে আসল খবর ধীরে ধীরে সামনে আসে। পুজোর থিম, “অপারেশন সিঁদুর”, এবার বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপে ডকুমেন্টারির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে ভারতীয় সেনার সাহসী পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার গল্প। অমিত শাহ নিজেই মোমবাতি জ্বালিয়ে দুর্গামায়ের আরতি করেন এবং এই থিমের গুরুত্ব দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন।
পুজোর মূল আকর্ষণেই রয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। এদিন উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং তাপস রায়। অমিত শাহ এই মঞ্চ থেকেই বাংলার দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কথাও বলেন – “নবরাত্রি চলাকালীন ন’দিন ধরে মায়ের পুজো এখন পুরো বিশ্বে পরিচিত। বাংলার ঐতিহ্য ও শক্তিপুজো দেখেই বিশ্ব এই উৎসবকে প্রশংসা করছে।”
অমিত শাহ এক পর্যায়ে বিদ্যাসাগরকে শ্রদ্ধা জানাতে ভুলেননি। তিনি বলেন, “আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জয়ন্তী। শিক্ষার জন্য যে জীবন উনি উৎসর্গ করেছেন তা কেউ ভুলতে পারবে না। বাংলার নারী শিক্ষা ও সংস্কৃতির জন্য উনি সারা জীবন নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।” এছাড়াও, দুর্গাপুজোর শুরুতে বৃষ্টির কারণে ১০ জনের মৃত্যুর সংবাদকে সম্মান জানিয়ে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ Partha Chatterjee : নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় ঘোষণা!জামিন পেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়! জেলমুক্তি এখনও প্রশ্নবিদ্ধ!
শেষে অমিত শাহ নিজের আবেগময় বার্তা দিয়ে পুজো উদ্বোধন সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, “মায়ের সামনে প্রার্থনা করলাম, যেন ভোটের পর বাংলায় এমন সরকার আসে যা সোনার বাংলা গড়তে পারে। আমরা রবীন্দ্রনাথের কল্পনার বাংলাকে বাস্তবায়িত করতে পারি।” এই উক্তি যেন সবার মনে এক ধরনের সাসপেন্স তৈরি করে, উৎসবের আনন্দের সঙ্গে রাজনীতির আশা ও প্রত্যাশার সংমিশ্রণ হয়ে।





