রাতারাতি বদলে গেল হাওড়া স্টেশন চত্বর! বুলডোজার, আরপিএফ আর পুলিশের ঘেরাটোপে উ’চ্ছেদ শতাধিক অবৈধ দোকান!

নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। কোথাও বেআইনি দখলদারি সরানো হচ্ছে, কোথাও আবার রাস্তা ও জনপরিসর পরিষ্কার রাখতে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে এবার কড়া পদক্ষেপ দেখা গেল হাওড়া স্টেশন চত্বরে। শনিবার গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী ও আরপিএফকে সঙ্গে নিয়ে বুলডোজার অভিযান চালাল রেল পুলিশ। স্টেশনের বাইরে ফুটপাত ও রাস্তার দখল করে থাকা একাধিক দোকান সরিয়ে পুরো এলাকা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। রাতারাতি এই অভিযান ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।

শনিবার রাত বাড়তেই হাওড়া স্টেশনের বাইরে পৌঁছে যায় বুলডোজার, রেল পুলিশ ও আরপিএফের বড় বাহিনী। বহুদিন ধরেই স্টেশনের বাইরে রাস্তা ও ফুটপাত জুড়ে অস্থায়ী দোকান, ডালা ও বিভিন্ন ব্যবসা চলছিল। অভিযোগ ছিল, এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে অফিস টাইমে হাওড়া স্টেশনের বাইরে প্রায়ই তৈরি হত তীব্র ভিড় ও যানজট। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতেই এবার বড় পদক্ষেপ নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ১৫০-র বেশি অবৈধ দোকান ও কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে এই অভিযানে।

আরও পড়ুন: ‘ব্যান কালচার’কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, সুবিধাবাদী তকমা গায়ে মেখেই অনির্বাণকে নিয়ে ফ্লোরে ফিরলেন দেব! অবশেষে শুরু ‘দেশু ৭’-এর শুটিং!

অভিযান চলাকালীন গোটা স্টেশন চত্বরে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। মাইক হাতে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, “এখানে ভিড় করবেন না। যাত্রীরা স্টেশনে চলে যান, যাঁদের বাস ধরার বাস ধরুন। এখানে কোনও নাটক হচ্ছে না। আপনারা আপনাদের কাজ করুন। প্রশাসনকে প্রশাসনের কাজ করতে দিন।” পুলিশের এই ঘোষণা ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায় এলাকায়। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই একের পর এক দোকান গুঁড়িয়ে দেয় বুলডোজার।

ফুটপাত ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, আচমকা এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। রেলের তরফে আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল জায়গা খালি করার জন্য। সেই নোটিস পাওয়ার পর অনেকেই নিজেদের ডালা বা সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যান। তবে যাঁদের অস্থায়ী দোকান ছিল, তাঁদের অনেকেরই ব্যবসার বড় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বরে ব্যবসা করে সংসার চলত বহু মানুষের। ফলে রাতারাতি উচ্ছেদ অভিযানে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যদিও রেল পুলিশের বক্তব্য, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ যাত্রীদের বড় অংশ এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, হাওড়া স্টেশনের বাইরে এতদিন যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল, তা অনেকটাই কমবে। ফুটপাত ফাঁকা থাকলে যাত্রীদের চলাচল সহজ হবে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কমবে। রেল কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, স্টেশন চত্বরকে আরও পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখতে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান চলতে পারে। শনিবার রাতের এই বুলডোজার অভিযান তাই শুধু একটি উচ্ছেদ নয়, বরং শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকাকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার প্রশাসনিক বার্তা বলেই মনে করছে একাংশ।

আরও অন্যান্য খবর