বাঙালি কন্যা পূজা ও প্রাক্তন ফুটবলার আনসুমানা ক্রোমার প্রেমের গল্প একসময় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাঠে ফুটবল খেলার ফাঁকে যেভাবে আলাপ, বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম আর শেষে বিয়ে, সবটাই যেন সিনেমার মতো। কিন্তু সেই গল্পের পরিণতি এত মর্মান্তিক হবে, তা কেউ ভাবতেও পারেননি। বুধবার আচমকাই হৃদরোগে মারা গেলেন ক্রোমার স্ত্রী পূজা, যিনি বিয়ের পর নাম বদলে সাদিয়া ক্রোমা হয়ে ওঠেন। বয়স হয়েছিল মাত্র ৩২।
২০১৯ সালে পূজা ও ক্রোমার বিয়ে হয়। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, চার্চিল ব্রাদার্স, নেরোকা ও শিলং লাজংয়ের মতো ক্লাবে খেলে তিনি চেনান মুখ। ফুটবল কেরিয়ারের সুবাদে বহু বছর ধরে কলকাতাতেই তাঁর বসবাস। এখানেই আলাপ হয়েছিল পূজার সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে জন্ম নেয় প্রেম, আর সেই প্রেমের পরিণতি হয় বিয়েতে। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান, একজনের বয়স পাঁচ বছর, অপরজনের মাত্র দু’মাস।
পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। রাতে দুধ-মুড়ি খেয়ে ঘুমোতে যান পূজা। কিছুক্ষণ পর শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ওঠেন। সেই সময়ই আচমকা পড়ে যান তিনি। মুখ থেকে গ্যাঁজলা বের হতে থাকে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও আর বাঁচানো যায়নি তাঁকে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হঠাৎ হৃদরোগেই মৃত্যু হয়েছে। এমন এক প্রাণবন্ত, হাসিখুশি মেয়ের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
ক্রোমা নিজেই সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। শোকভরা বার্তায় তিনি লিখেছেন, “আমাদের ছেড়ে বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলে সাদিয়া। কষ্টে বুক ভেঙে যাচ্ছে। কী করে আমাদের পাঁচ বছরের এবং দু’মাসের সন্তানকে বলব যে তাদের মা আর নেই।” এই কয়েকটি বাক্যেই ফুটে উঠেছে তাঁর বেদনার গভীরতা। যে নারী একসময় তাঁকে জীবন-মৃত্যুর লড়াই থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, সেই নারীই এবার হারিয়ে গেলেন চিরতরে।
গত বছর ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন ক্রোমা। শরীরের ডানদিক পুরোপুরি অসাড় হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় দিনরাত এক করে তাঁর সেবা করেছিলেন পূজা। নিজের শক্তিতে, ভালোবাসায়, তিনি ক্রোমাকে ফিরিয়ে আনেন জীবনে। সেই পূজার এমন আকস্মিক মৃত্যু ক্রোমাকে ভেঙে দিয়েছে ভিতর থেকে।
আরও পড়ুনঃ R*ape case: নিজের সহপাঠীর হাতে ধর্ষ*ণের শিকার তরুণী, অভিযুক্ত পলাতক থাকার পরে অবশেষে গ্রেফতার!
ফুটবল দুনিয়ার বহু সহকর্মী ও ভক্ত সমাজমাধ্যমে ক্রোমার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সবাই একবাক্যে বলেছেন, পূজার মতো সহৃদয় মানুষ খুব কমই দেখা যায়। জীবনের খেলায় তিনি চিরতরে হার মেনে গেলেন, কিন্তু তাঁর ভালোবাসা, তাঁর ত্যাগ ক্রোমার জীবনে রয়ে যাবে অমলিন স্মৃতি হয়ে।






