আনন্দপুরে ফের চাঞ্চল্যের ঘটনা। এক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরই সহপাঠীকে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল অভিযুক্ত যুবক। অভিযোগ, ঘটনার রাতে পরিকল্পিতভাবে ওই তরুণীকে একা পেয়ে নৃশংসভাবে নির্যাতন চালায় সে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা ওই ২১ বছরের তরুণী আনন্দপুরের এক ফ্ল্যাটে তাঁর বান্ধবীর সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। দুর্গাপূজার সময় এক বন্ধুর সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন তিনি। তখন ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন তাঁর সঙ্গিনী। পরদিন ভোরে ফিরে এসে তরুণী স্বাভাবিক দিন কাটাচ্ছিলেন। সকালবেলায় বান্ধবীও ফ্ল্যাট ছেড়ে বাইরে যান অন্য এক বন্ধুর সঙ্গে, যিনি পরবর্তীকালে হয়ে ওঠেন মামলার মূল অভিযুক্ত।
সকালের কিছু পরে সেই যুবক ফ্ল্যাটে এসে জানায়, বান্ধবী নাকি কিছু জিনিস ফেলে গেছেন, সেগুলি নিতে এসেছে। তরুণী কিছুই সন্দেহ না করে দরজা খুলে দেন। ঠিক তখনই ঘটে ভয়ংকরতম মুহূর্ত। অভিযোগ, ওই যুবক তাঁকে একটি পানীয় খেতে দেয়, যাতে নেশাজাতীয় মাদক মিশিয়ে রাখা ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তরুণী। এরপর তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
জ্ঞান ফেরার পর ওই সহপাঠী তাঁকে কঠোরভাবে ভয় দেখায় এবং কাউকে কিছু না বলতে হুমকি দেয়। আতঙ্কে প্রথমে চুপ থাকলেও পরে পরিবারকে বিষয়টি জানান তরুণী। পরিবারের পরামর্শে গত ৪ অক্টোবর আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। মেডিক্যাল পরীক্ষায় যৌন হেনস্থার প্রমাণ মেলায় পুলিশের তদন্ত তীব্র হয়। অভিযুক্তের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি, কিন্তু তিনি তখনও পলাতক।
আরও পড়ুনঃ Kalipuja: ছাগ বলি, ৬০০ কেজি ভোগ আর তান্ত্রিক আচার—কেওড়াতলার জাগ্রত কালী ও কৃষ্ণকালী পুজোর অজানা কাহিনি!
অবশেষে মঙ্গলবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনাটির পর অভিযুক্ত তরুণীকে জোর করে ঝাড়খণ্ডে পাঠিয়ে দেয় নিজের অপরাধ ঢাকতে। বিগত কয়েক দিনে রাজ্যে একাধিক ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দুর্গাপুরের মেডিক্যাল পড়ুয়ার ঘটনার প্রতিধ্বনি মেলেছে এই কাণ্ডেও। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে দাবি উঠছে, অভিযুক্তের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।





