রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তার মেঘ বহুদিন ধরে ভেসে বেড়াচ্ছিল, বুধবার তার কিছুটা হলেও সরে গেল। দীর্ঘ লড়াই, অসংখ্য শুনানি আর হাজারো শিক্ষক-শিক্ষিকার দুশ্চিন্তার পর অবশেষে আদালতের রায়ে আসা স্বস্তির হাওয়া পৌঁছল রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি। তবে এই স্বস্তির মাঝেও রয়ে গেল তদন্তের তীক্ষ্ণ নজর, যা আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হতে চলেছে।
জানা যায়, ২০২৩ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২,০০০ প্রশিক্ষণহীন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সেই রায়ের পর হাজারো পরিবারের মাথায় নেমে এসেছিল ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার ছায়া। অভিযোগ ছিল, ২০১৪ সালের টেটের পরে ২০১৬-তে হওয়া নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে, যার তদন্ত নিয়ে মামলা পৌঁছেছিল আদালতে।
এরপর মামলাটি যায় ডিভিশন বেঞ্চে, সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টেও। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি আবার ফিরিয়ে দেয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানে টানা শুনানির পর ১২ নভেম্বর রায় স্থগিত রাখা হয়। প্রতীক্ষার মুহূর্ত দীর্ঘ হতে থাকে আবেদনকারীদের কাছে। বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের দাবি ছিল, যাঁরা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের শাস্তি দিতে হবে এবং যোগ্যদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে হবে, নইলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
অবশেষে বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এত বছর পর হঠাৎ চাকরি বাতিল করলে শিক্ষক এবং তাঁদের পরিবারের উপরে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই সিঙ্গল বেঞ্চের রায় খারিজ করা হল। তবে একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে— দুর্নীতির তদন্ত চলবে এবং যেখানে প্রমাণ মিলবে, সেখানেই আইন ব্যবস্থা নিজের পথে চলবে।
আরও পড়ুনঃ PM modi : বাংলায় কি সত্যিই চাপে পড়ছেন বিজেপি কর্মীরা? বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে মোদীর কড়া প্রশ্ন—খগেন মুর্মুর হামলা থেকে এসআইআর বিতর্ক, সব নিয়ে তপ্ত দিল্লি!
শেষ পর্যন্ত বিচারিক সিদ্ধান্তে চাকরি রক্ষা পেলেও শিক্ষকদের ওপর চাপ থাকছেই। কারণ তদন্তের ধারা চলছে এবং আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থা কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করবে সেই তদন্তের ফলাফলের ওপর। তবে আপাতত ৩২,০০০ পরিবারে ফিরে এসেছে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার শেষে খানিক নিশ্চিন্তির নিঃশ্বাস।





