বাংলা সিনেমায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে নতুন ছবি কর্পূর। ছবিটি মুক্তির আগেই ট্রেলার এবং গল্পের বিষয়বস্তু নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল। এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, যে কোনও চরিত্র বেছে নেওয়ার আগে তিনি ভাবেন দর্শকদের জন্য নতুন কী দিতে পারবেন। ‘মৌসুমি সেন’ নামের চরিত্রটি তাঁর কাছে তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একজন অধ্যাপিকার জীবনের নানা টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং সমাজের সঙ্গে সংঘাতকে কেন্দ্র করেই এগোবে গল্প। বাস্তব ঘটনার ছায়ায় তৈরি এই ছবিতে একটি শিক্ষা কেলেঙ্কারি এবং তার রহস্যময় অন্তর্ধানের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে, যা গল্পকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে তুলেছে।
ছবির গল্পে দেখা যাবে একজন নারীর বহুমুখী জীবনসংগ্রাম। পরিবারের সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং সমাজের প্রত্যাশার মধ্যে কীভাবে একজন নারী নিজেকে ধরে রাখে সেটাই মূল উপজীব্য। ঋতুপর্ণার মতে, এই চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে তিনি যেন সেই সময়ের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যেই ফিরে গিয়েছিলেন। একজন অধ্যাপিকা হিসেবে মৌসুমি সেন যে সব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তা ফুটিয়ে তুলতেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অফিস রাজনীতি, পেশাগত চাপ এবং ব্যক্তিগত মানসিক দ্বন্দ্ব এই গল্পকে বাস্তবের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করেছে।
পরিচালক অরিন্দম শীল এর পরিচালনায় এটি ঋতুপর্ণার দ্বিতীয় কাজ। এর আগে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন মায়া কুমারী ছবিতে। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন ব্রাত্য বসু, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত কুণাল ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন, ব্রাত্য বসু অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ অভিনেতা এবং তাঁর অভিনয় দৃশ্যকে অন্য মাত্রা দেয়। অনন্যার অভিনয়ও তাঁর খুব ভালো লেগেছে। তবে কুণাল ঘোষের অভিনয় তাঁকে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, কুণালদার একই অঙ্গে এত রূপ আগে জানা ছিল না এবং তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করেছেন।
ছবিতে রাজনীতি এবং সমাজের নানা প্রেক্ষাপট থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে নেই বলেই জানিয়েছেন ঋতুপর্ণা। তাঁর মতে রাজনীতি তাঁর ক্ষেত্র নয় এবং তিনি নিজের জীবন ও ইন্ডাস্ট্রির রাজনীতিই সামলাতে গিয়ে অনেক সময় বিপাকে পড়েন। তবে যদি কোনও ছবিতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকে, সেটাকে তিনি শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চান। পাশাপাশি সম্প্রতি ইন্ডাস্ট্রির স্ক্রিনিং কমিটি নিয়েও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই কমিটি যদি কাজকে আরও সুসংগঠিত করতে পারে তবে তা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালোই হবে।
আরও পড়ুনঃ মঞ্চেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শিলাজিৎ মজুমদার! ‘হাত দেখিয়ে নামতে বলল পুলিশ’, পয়লা পার্বণ উৎসব ঘিরে বিতর্ক! বাংলার মাটিতেই শিল্পীর অপমান? ঠিক কী ঘটেছে?
১৯ মার্চ বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে কর্পূর। একই সময়ে মুক্তি পাচ্ছে ধুরন্ধর ২। তবু ঋতুপর্ণা আশাবাদী যে শক্তিশালী বিষয়বস্তু এবং অভিনয়ের জোরে দর্শকের মন জয় করবে তাঁর নতুন ছবি। তিনি মনে করেন, একসঙ্গে একাধিক ভালো সিনেমা মুক্তি পেলেও দর্শক সব ছবিকেই ভালোবাসা দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কাজ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এর সঙ্গে নতুন ছবির পরিকল্পনা চলছে। এছাড়াও পরিচালক সুদীপ্ত সেন এর সঙ্গেও কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।





