বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে এখন চাঞ্চল্য। সোমবার বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। সোমবার সকালেই শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়, দুর্বলতা বাড়তে থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে।
দলীয় সূত্র জানায়, সভাপতি হওয়ার পর থেকেই শমীক ভট্টাচার্য লাগাতার সংগঠনের কাজে ব্যস্ত থাকেন। আগাম ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যজুড়ে নতুন কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যায় খারাপ অবস্থায় যারা রয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াতে নিজে সেখানে যান, সড়কপথে নানা এলাকায় ঘুরে দেখা ও ত্রাণ কার্য তত্ত্বাবধান করেন। সেই সফর শেষে ফেরার পর থেকেই তাঁর গায়ে জ্বর আসে।
তবে শরীরে অসুস্থতা নিয়েও কাজ থামাননি তিনি। দলীয় দপ্তরের কার্যক্রম, বৈঠক—সবকিছুই স্বাভাবিক গতিতে চলছিল তাঁর নেতৃত্বে। কিন্তু সোমবার সকালে পরিস্থিতি বদলায়। দুর্বলতা এতটাই বাড়ে যে দাঁড়ানোও কষ্টকর হয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে দলের সহকর্মী এবং পরিবার চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, ভর্তি হওয়ার পর শমীক ভট্টাচার্যের রক্ত ও ডেঙ্গি সহ একাধিক পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রিপোর্ট হাতে এলেই জ্বরের প্রকৃত কারণ নির্দিষ্টভাবে জানা যাবে। আপাতত তাঁকে পর্যবেক্ষণ কক্ষে রাখা হয়েছে এবং খাদ্য গ্রহণেও কিছু সমস্যা থাকায় বিশেষ যত্নে রাখা হচ্ছে। ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, শমীকবাবু আপাতত বিশ্রামে রয়েছেন, অল্প কথাবার্তা বলছেন এবং চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলছেন।
আরও পড়ুনঃ BJP: ধুন্ধুমার তুফানগঞ্জ! বিজেপি বিধায়ক মালতি রাভাকে ঘিরে উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান!
রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতা তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল হলেও কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না। দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগে কোনও কর্মসূচিতেই যোগ দেবেন না তিনি। ফলে আগামী কয়েকদিন সম্ভবত তাঁকে হাসপাতালেই থাকতে হবে।






