দুর্যোগের মধ্যে উত্তরের রাজ্যের নাগরাকাটা এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ এখনও শঙ্কিত এবং প্রশ্ন করছে, কীভাবে একধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বিষয়টি শুধু স্থানীয় নয়, এখন কেন্দ্রীয় স্তরেও আলোচনা চলছে। ঘটনা এমনভাবে ঘটেছে যে, রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার, যখন জলপাইগুড়ির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়ে খগেনকে ইট দিয়ে আঘাত করেন, যার ফলে সাংসদ রক্তাক্ত হন। শঙ্করের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনার পর খগেন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয়রা বলছেন, হামলা ‘পূর্বপরিকল্পিত’ ছিল।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আমরা এই ঘটনার জন্য জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-এর তদন্ত দাবি করছি। বার বার এমন ঘটনা চলতে পারে না। কেউ যদি মনে করে, সাংসদকে আক্রমণ করে বিজেপিকে ভয় দেখানো সম্ভব, তাহলে তাঁরা ভুল করছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, অভিযুক্তরা যতই গোপনে থাকুক না কেন, কেন্দ্র সরকার আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের আইনের আওতায় আনবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা আহতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। রিজিজু বলেন, “লোকসভার স্পিকার রাজ্য সরকারের কাছে নোটিস দিয়েছেন। রিপোর্ট দিতে দেরি হলে, স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাব অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” বিজেপি অভিযোগ করছে, হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য, যা শাসকদল তৃণমূলের দায় হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Gang*rape :উৎসবের রাতে অন্ধকার অধ্যায়! লক্ষ্মীপুজোর রাতে নাবালিকাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গণধ*র্ষণ!
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে বাংলা ও ইংরেজিতে পোস্ট করে রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলকে দুষেছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার উত্তর দেন, এবং বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও রাজনৈতিক রণনীতি চালানো হচ্ছে। বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখনই জানতে চাইছে, কারা দায়ী এবং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






