এবারের দুর্গাপুজোতেও রাজপথে জমবে জনজোয়ার। ভিড়, আলো, আনন্দে ভরে উঠবে শহর। আর সেই আনন্দের অঙ্গই হল হোল নাইট ঠাকুর দেখা। প্যান্ডেল থেকে প্যান্ডেল ঘুরে রাতভর ঠাকুর দেখা যেন পুজোর অঙ্গ। কিন্তু সারারাত ঘোরাঘুরি, ভিড়ের চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাবার—সব মিলিয়ে শরীরের উপর বিরাট চাপ পড়ে। বিশেষ করে যাঁরা সুগার বা প্রেশারের রোগী, তাঁদের জন্য এই রাত জাগরণ বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে জানালেন নামী চিকিৎসক ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল।
তিনি জানান, কম বয়সী বা সুস্থ মানুষরা একরাত রাত জাগলে তেমন ক্ষতি হয় না। কিন্তু যাঁরা ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড প্রেশারের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের শরীরে তা প্রভাব ফেলতে পারে। রাতে ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত নুন-তেল মেশানো খাবার খেলে হঠাৎ করে সুগার ও প্রেশার বেড়ে যেতে পারে। আবার ইনসুলিন বা ওষুধ নেওয়ার পর অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা সুগার ফল হতে পারে। তার পাশাপাশি ঘুমের অভাবে মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, পেটের গোলমাল, শরীর ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতেই পারে।
তাহলে সমাধান কী? ডাঃ পালের মতে, কিছু সহজ নিয়ম মানলে একেবারেই ফিট থেকে ঠাকুর দেখা সম্ভব।
প্রথমেই খাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বাইরে বেরোনোর আগে বাড়িতেই হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে বেরোন। ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড বা প্রসেসড খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষত সুগার ও প্রেশারের রোগীদের ক্ষেত্রে। ডায়াবেটিস রোগীরা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ ঠিক করে নিলে অনেকটা ঝুঁকি কমবে।
দ্বিতীয়ত, জল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারারাত ঘোরাঘুরির মধ্যে ডিহাইড্রেশন হয়ে শরীর খারাপ হতে পারে। তাই সবসময় সঙ্গে জল রাখুন। বাইরে কেনা ঠান্ডা পানীয় নয়, বাড়ি থেকে জল নিয়ে বেরনোটাই সেরা উপায়।
তৃতীয়ত, হাঁটার নিয়ম মেনে চলা জরুরি। একনাগাড়ে অনেকটা হাঁটলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তার চেয়ে অল্প অল্প করে হাঁটুন, মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নিন, তারপর আবার রওনা দিন। এতে শরীর সতেজ থাকবে।
চতুর্থত, ভিড় এড়ানো ভালো। বেশি ভিড় শুধু ক্লান্তিই বাড়ায় না, সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই সুযোগ থাকলে কম ভিড়ের সময় ঠাকুর দেখা বেছে নিন।
সবশেষে, শরীরে যদি অস্বস্তি বা অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এছাড়াও, কিছু SOS টিপস দিয়েছেন ডাঃ পাল। যেমন—পেট খারাপ হলে অ্যান্টাসিড খাওয়া যেতে পারে, মাইগ্রেন হলে নিজের নিয়মিত ওষুধ বা প্যারাসিটামল খেয়ে নিতে হবে। শরীর ব্যথা বা ম্যাজম্যাজ করলে তাতেও প্যারাসিটামল কার্যকর।
আরও পড়ুনঃ Recipe: বিরিয়ানির মতো কিন্তু বিরিয়ানি নয়! এবার পুজোয় কাশ্মীরি স্টাইলে রেঁধে ফেলুন চিকেন তেহরি
অর্থাৎ আনন্দে ভরা এই হোল নাইট ঠাকুর দেখা যেন কোনওভাবেই শরীরের ক্ষতি না করে, তার জন্য দরকার সামান্য সচেতনতা। নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিলে সারারাত প্যান্ডেল হপিং করেও থাকতে পারবেন একেবারে ফিট।





