Sukanta on SIR: তৃণমূলকে ‘ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ’ আখ্যা দিয়ে সুকান্তের হুঙ্কার-“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোর সরকার উৎখাত করব!”

গঙ্গারামপুরে শনিবার বিজেপির জনসভা ঘিরে ছিল ব্যাপক উত্তেজনা। দীর্ঘদিন ধরেই অনুমতি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল প্রশাসনের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি ছাড়াই সভা আয়োজন করে বিজেপি। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের দুই নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার। মঞ্চে উঠে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি একদিকে যেমন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন, অন্যদিকে ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেন স্পষ্ট ভাষায়।

সুকান্তর বক্তব্যে ছিল শাসকদলের প্রতি কড়া সমালোচনা। তিনি অভিযোগ করেন, “তৃণমূল এখন ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করছে। এসআইআর নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।” এরপরই তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “আমরা বিজেপি ঠিক করেছি, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোর সরকারকে উৎখাত করব। তবেই বাংলায় শান্তি ফিরবে।” সভামঞ্চ থেকে এই মন্তব্যের পর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের ঝড় ওঠে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ‘এসআইআর’ শব্দটি রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রশ্নে সংখ্যালঘুদের হেনস্থা করা হবে। তবে সুকান্ত মজুমদারের দাবি একেবারেই ভিন্ন। তিনি বলেন, “যাঁরা ভারতের নাগরিক— হিন্দু বা মুসলমান, কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না। সেটা ভারতীয় জনতা পার্টির গ্যারান্টি।” একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “তবে বাংলাদেশ থেকে যদি কেউ অবৈধভাবে আসে, তাঁদের এই তালিকায় রাখা সম্ভব নয়।”

বক্তব্যের মাঝে ভারতীয় মুসলমানদের উদ্দেশ্যে সুকান্ত বলেন, “ভারতীয় মুসলিমরা এখানে ছিলেন, আছেন এবং আগামীদিনেও থাকবেন।” তাঁর কথায়, বিজেপি প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ দল— “আমরা কারও ধর্মে হস্তক্ষেপ করি না, কিন্তু তৃণমূল ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতা দেখায়, মানুষকে লড়াই লাগাতে চায়।” এই মন্তব্যে তিনি সরাসরি তৃণমূলের নীতিকে প্রশ্নের মুখে তোলেন।

আরও পড়ুনঃ Sukanta on SIR: তৃণমূলকে ‘ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ’ আখ্যা দিয়ে সুকান্তের হুঙ্কার-“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোর সরকার উৎখাত করব!”

সভা শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নীতি তুলে ধরে বলেন, “নরেন্দ্র মোদী সবার সাথ, সবার বিকাশের মন্ত্রে বিশ্বাসী। তাই ভয় পাবেন না, ভারতীয় মুসলমানরা দেশেরই অংশ।” একইসঙ্গে তিনি জানান, “যাঁরা সত্যিই উদ্বাস্তু, তাঁদের জন্যই সিএএ (CAA) আনা হয়েছে। তাঁদেরও এই দেশের নাগরিক হিসেবে থাকার অধিকার আছে।” সভার শেষে সুকান্তর সুর ছিল দৃঢ়— “আমরা লড়াই চাই না, চাই ঐক্য। ভারতবর্ষে প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদ থাকুন, এটাই আমাদের লক্ষ্য।” এই বক্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলেছে— কেউ বলছেন “অভয়বাণী”, কেউ আবার দেখছেন রাজনৈতিক কৌশল। তবে একথা স্পষ্ট, সুকান্তর বার্তা এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর