শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের এক অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাস্তার ধারে ঘোরাঘুরি করা এক অপরিচিত ব্যক্তির ব্যাগ দেখে কৌতূহলী হয়ে ওঠে এলাকার দুই বাসিন্দা। সন্দেহজনক আচরণে তাঁরা কাছে গিয়ে কথা বলতেই ব্যক্তি ঘামতে শুরু করেন। কেউ ভাবতেও পারেনি, তাঁর ব্যাগের ভেতর কী অপেক্ষা করছে।
শেষমেশ ব্যাগ খুলতেই সামনে আসে স্তম্ভিত করা দৃশ্য, সেখানে শতাধিক ভোটার পরিচয়পত্র। অচেনা সেই মানুষটিকে আর দেরি না করে স্থানীয়রা পুলিশে তুলে দেন। ঠিক সেই জায়গাটিই পরে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ খতিয়ে দেখে, উদ্ধার হওয়া সব ভোটার কার্ড একই রাজ্যের নয়।
আশ্চর্যের বিষয়, কয়েকটি পরিচয়পত্রে প্রতিবেশী রাজ্য অসমের ঠিকানাও রয়েছে। এর ফলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে—এই ব্যক্তি একা, না কি এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র সক্রিয়? বিষয়টি জানানো হয় মহকুমা শাসককে, নির্বাচনী দপ্তরকেও খবর পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কল্যাণীতে এবং কল্যাণী থানার আইসি দেবাশিস পাণ্ডে জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ বলে মনে হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। পুলিশের দাবি, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কার্ডগুলি আদৌ আসল নাকি নকল, এবং কীভাবে সেই অসুস্থ ব্যক্তি এতগুলো পরিচয়পত্রের দখলে এল। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই আশেপাশের এলাকাতেও তল্লাশি শুরু করেছেন।
আরও পড়ুনঃ Sukanta on SIR: তৃণমূলকে ‘ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ’ আখ্যা দিয়ে সুকান্তের হুঙ্কার-“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোর সরকার উৎখাত করব!”
এ ঘটনার পর রাজনীতিও সরগরম। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—ভোটার তথ্য ও নথিপত্র নিয়ে নির্দিষ্ট মহল দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবহার করছে। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি অকারণে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। তবে দুই পক্ষের দাবির মাঝে পুলিশ এখন প্রকৃত তথ্যের সন্ধানে, কারণ শতাধিক ভোটার কার্ডের এই অস্বাভাবিক উপস্থিতি সাধারণ ব্যাপার নয়।





