Supreme Court on WAQF Case: স্থগিত করা হয়নি ওয়াকফ সংশোধনী আইন! তবে গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়ে স্থগিতাদেশ জারি!

দেশের মুসলিম সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং ধর্মীয় দাতব্য কাজকে কেন্দ্র করে ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক তোলপাড় চলছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এই আইনের কিছু ধারা আংশিকভাবে স্থগিত করেছে। তবে পুরো আইন স্থগিত করতে আদালত রাজি হয়নি। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও সমর্থনের উভয়ই আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষও এখন কৌতূহলপূর্ণ দৃষ্টিতে আদালতের এই পদক্ষেপকে দেখছেন।

প্রধান বিচারপতি বি আর গভাই এবং বিচারপতি এ জি মসিহ নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার জানিয়েছে, ওয়াকফে সম্পত্তি দান সংক্রান্ত যে বিধান দেওয়া হয়েছে, সেটির ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য। সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি পাঁচ বছর ইসলাম ধর্ম পালন না করে, তাহলে তিনি ওয়াকফ সম্পত্তি দান বা প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। আদালতের স্থগিতাদেশ অনুযায়ী, সরকারের নিয়োগকৃত একজন অফিসার এই বিষয়টি যাচাই করবেন এবং রিপোর্ট জমা না দেওয়া পর্যন্ত সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে গণ্য হবে না।

আদালত আরও জানিয়েছে, পুরো আইন চ্যালেঞ্জ করা হলেও, বিচারকরা শুধুমাত্র কিছু ধারার প্রাথমিক বৈধতা ও প্রভাব পরীক্ষা করেছেন। বিশেষ করে ধারা ৩(আর), ৩সি ও ১৪-এর ওপর সংশ্লিষ্ট বাধ্যবাধকতা দেখা গেছে। নতুন ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরে অ-মুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি এবং সরকারি অফিসারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও স্থগিতাদেশের আওতায় এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের মতে, জেলাশাসকের হাতে কোনও সম্পত্তি সরকারি কিনা তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাখা ক্ষমতার বিভাজনের নীতির বিরোধী।

ওয়াকফ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, ইসলামে নির্ধারিত ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ হিসাবে উৎসর্গ করা হয়। নতুন সংশোধনী আইন, ২০২৫ এই ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে আনা হয়েছে। আইনের লক্ষ্য ছিল ওয়াকফ বোর্ডগুলিতে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা এবং বোর্ডের সম্পত্তি জেলা কালেক্টরের কাছে নিবন্ধন নিশ্চিত করা। কিন্তু সমালোচকরা মনে করছেন, সরকারি নিয়োগ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন সীমিত করবে।

আরও পড়ুনঃ extra marital affair : স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়লেন স্বামী, কান্নায় ভেঙে পড়া স্ত্রীর সামনে মাটিতে লুটিয়ে মৃত্যু তরুণের!ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য নেটপাড়ায়!

ভারতে ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে প্রায় ৯.৪ লক্ষ একর জমি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১.২ লক্ষ কোটি টাকা। এটি ভারতীয় রেল এবং সশস্ত্র বাহিনীর পরে তৃতীয় বৃহত্তম জমির মালিক। দেশজুড়ে ৩০টি ওয়াকফ বোর্ড কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সুপ্রিম কোর্টের এই আংশিক স্থগিতাদেশ আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং ধর্মীয় সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন দিক দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এই আইনের ভবিষ্যত এবং মুসলিম দাতব্য সম্পত্তির ব্যবস্থাপনাকে সুস্পষ্ট করবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর