বলিউডে বহু বছর ধরে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন সুষমা শেঠ (Sushma Seth)। এখন তাঁর বয়স প্রায় ৯০ বছর। কিন্তু তাঁকে দেখলে অনেকেই অবাক হয়ে যান, কারণ এই বয়সেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয় এবং স্বনির্ভর জীবনযাপন করেন। বয়সের ভার তাঁকে যেন ছুঁতেই পারেনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্যের রহস্য তুলে ধরেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, কঠিন কোনও নিয়ম নয়, বরং সহজ এবং নিয়মিত জীবনযাপনই তাঁকে এত বছর সুস্থ ও চনমনে থাকতে সাহায্য করেছে। নতুন প্রজন্মের কাছেও তাঁর এই জীবনধারা অনুপ্রেরণার হয়ে উঠতে পারে।
সুষমা শেঠের দিন শুরু হয় ভোর চারটেয়। এই বয়সেও তিনি প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন এবং দিনের শুরু করেন ধ্যানের মাধ্যমে। কিছুক্ষণ মনকে শান্ত করে নেওয়ার পর তিনি নিয়ম করে যোগাসন ও প্রাণায়াম করেন। তাঁর মতে, শরীরকে সচল রাখতে নিয়মিত যোগব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শরীর নয়, মনকেও সুস্থ রাখতে এই অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। দিনের শুরুতেই শরীরচর্চা করার ফলে তিনি সারাদিন সতেজ ও কর্মক্ষম থাকতে পারেন।
শুধু শরীরচর্চাই নয়, সারা দিন সক্রিয় থাকাটাকেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। অনেক সময় বয়স বাড়লে মানুষ নিজের কাজের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু সুষমা শেঠ সেই পথে হাঁটেননি। তিনি এখনও নিজের বেশিরভাগ কাজ নিজেই করেন। তাঁর মতে, শরীরকে যত বেশি কাজে লাগানো যায় তত বেশি তা সক্রিয় থাকে। এই অভ্যাসই শরীরকে শক্তি দেয় এবং অলসতা দূর করে।
পুষ্টিবিদদের মতেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরকে সচল রাখা খুব প্রয়োজন। বিশেষ করে ৬০ বছরের পর শরীরের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এই সময়ে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরে শর্করার মাত্রাও সঠিকভাবে বজায় রাখা যায়। নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্ত না করেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই বৃদ্ধ বয়সেও সক্রিয় জীবনযাপন বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুনঃ West Bengal Governor RN Ravi : বোসের পদত্যাগের পর বাংলায় নতুন রাজ্যপাল! লোকভবনে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি, শপথবাক্য পাঠ করালেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি!
সুষমা শেঠ জানিয়েছেন, নিয়মিত ধ্যান, যোগাসন এবং হাঁটাচলাই তাঁর সুস্থতার মূল মন্ত্র। একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর এখনও নিজের সব কাজ করার মতো শক্তি রয়েছে। প্রতিদিন ভোরে উঠে ধ্যান করার পর তিনি যোগাসন করেন এবং পরে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন। এই নিয়মিত অভ্যাসই তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী রেখেছে। তাঁর জীবনধারা প্রমাণ করে, সঠিক অভ্যাস থাকলে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।





